রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার উপায়

প্রিয় পাঠক, করোনা ভাইরাস সহ বিভিন্ন রোগ থেকে বাঁচতে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার কোনো বিকল্প নেই।

খাবার খেয়ে রোগ প্রতিরোধ করার ফলে কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হওয়া ঝুঁকি নেই। সুতরাং খাবার গ্রহণের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

তাই চলুন রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে যেসব খাবার ও রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করার উপায় জেনে নেয়া যাক।

১। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ভিটামিন ‘সি’:

সকল প্রকার ভিটামিনের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন ‘সি’ হচ্ছে বিখ্যাত ! ভিটামিন সি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

এটি সর্দি, কাশি ও ঠান্ডা জনিত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি আমাদের ত্বক ভালো রাখে এছাড়া ভিটামিন ‘সি’ দাঁতের বিভিন্ন প্রকার রোগ প্রতিরোধ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে – ভিটামিন ‘সি’ মানব দেহের জন্য একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মাক্রোনিউট্রিয়েন্ট উপাদান।

পাশাপাশি ভিটামিন সি ত্বক, চুল, দাঁত ভালো রাখে। এছাড়া ভিটামিন ‘সি’ ক্যান্সার ও হার্টের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমায়।

এছাড়া শুধু মাত্র লেবু মিশ্রিত হালকা গরম পানি পান করে দেহের ৩০% ওজন কমানো যায়।

ভিটামিন ‘সি’ শরীলে জমা থাকে না। তাই রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নিয়মিত ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ খাবার খেতে হয়।

ভিটামিন ‘সি’ বিভিন্ন প্রকার ফল ও শাক-সবজিতে পাওয়া যায়। যেমন- লেবু, কমলা লেবু, আমলকি, জাম্বুরা, পেয়ারা, আমড়া, কাঁচা আম, ইত্যাদি ফলে প্রচুর পরিমান ভিটামিন ‘সি’ থাকে।

অপরদিকে, ভিটামিন সি তে বিদ্যামান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হার্টের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে। বিধায়, হার্টঅ্যাটাক এবং স্টোকের ঝুঁকি কমে যায়।

তবে এর সুবিধা পেতে, একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ৯০ মি.গ্রা. পরিমাণ ভিটামিন সি গ্রহণ তরতে হবে।

বয়স্ক ব্যক্তির জন্য ভিটামিন সি টনিকের মতো কাজ করতে পারে। কারণ এটি হাড় ক্ষয় রোধ করে। হাড় ভঙ্গুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

বিশেষ করে ৫০ ঊর্ধ যে সকল মহিলা নিয়মিত ভিটামিনি সি গ্রহণ করেন, তারা একই বয়সের অন্যদের তুলনায় তাদের শরীল অধিক সুস্থ্য ও মজবুত থাকে।

এছাড়া ভিটামিন সি আমাদের চোখের রক্ত চলাচলা স্বাভাবিক রাখে ফলে আমাদের চোখও ভালো রাখে।

সুতরাং রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ানোর জন্য আপনি অন্তত প্রতিদিন লেবু খেতে পারেন। কেননা লেবু সস্তা, সহজে সারা বছর পাওয়া যায়।

এছাড়া ভিটামিন সি জাতীয় পাউডার পাওয়া যায়। তাই ভিটামিন সি আপনার রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করার অন্যতম সেরা উপায় হতে পারে।

২। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সকালে পানি পান করতেই হবেঃ

পানির অপর নাম জীবন, একথা বললেই পানির গুরুত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং পানি কিভাবে আমাদের দেহকে প্রাণবন্ত রাখে তা জনতে হবে।

আমাদের দেহের নিজস্ব ইমিউনিটি সিস্টেম রয়েছে, যা অনেক ইনফেকশন ও রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে আর খালি পেটে জল পান করলে সকল প্রকার ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়।

শুধু তাই নয় সকালে খালি পেটে পানি পানের ফলে, মাথা ব্যথ্য, শরীলে ব্যথা, হার্টের সমস্যা, বাতের সমস্যা, স্থুলতা, ইত্যাদি রোগে সফলতা পাওয়া যায়।

পানি রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। এছাড়া ত্বক উজ্জ্বল রাখে। খালি পেটে জল পান করার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে।

সারা দিন জুড়ে নিজেকে প্রানবন্ত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং সকালে ঘুম থেকে উঠে ২ থেকে ৩ গ্লাস পানি পান করার পাশাপাশি সারা দিন কাজের ফাকে নিয়মিত বিরতিতে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করতে হবে।

এতে করে আমাদের শরীল সুস্থ্য থাকবে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পাবে।

তাই সকালে পানি পানের অভ্যস আপনার রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করার অন্যতম সেরা একটি উপায় হতে পারে।

৩। ভিটামিন ডি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:

মানব দেহের রোগ প্রতিরোধী কোষ সমূহ ভিটামিন পেলে বেশ উদ্দীপিত হয়। আর ভিটামিন ডি হলো বিখ্যাত, যা আমরা সূর্যর আলো থেকে পেয়ে থাকি।

ভিটামিন ডি এর অভাব ঘটলে হাড় গঠন হয় না। এছাড়া বারবার ইনফেকশন হতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হীনতা জনিত রোগ হতে থাকে।

তাই রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করতে আমাদের ভিটামিন ডি এর অভাব দূর করতে হবে।

ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার যেমন- দুধ, পনির, দই, মাখন, সামুদ্রিক মাছ, কাঠবাদাম, পালং শাক, ডিম, শুটকি মাছ ইত্যাদি খেয়ে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করা যায়।

তাই ভিটামিন ডি আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার অন্যতম সেরা উপায় হতে পারে।

৪। মধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ

মধুর কথা আমরা সকলেই জানি। মধুর উপকারের কথাও সবার জানা। মধুতে থাকা অ্যান্টিস্পেটিক পাকস্থলি সুস্থ্য রাখে।

শধু তাই নয় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে মধু বেশ উপকারি।

মধু দেহ থেকে দুষিত পদার্থ বের করে দেয় এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে।

মধুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহকে নানা ঘাত প্রতিঘাত থেকে রক্ষা করে। এছাড়া, মধুতে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ক্যান্সরের মতো রোগ প্রতিরোধ করে।

এটি কোষের ফ্রি রেডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। আবার মধুতে থাকা ক্যালোরি দেহে রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমান বাড়ায়।

ফলে রক্ত বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। তাই মধু আপনার রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করার অন্যতম সেরা উপায় হতে পারে।

৫। কালো জিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:

কালো জিরা একটি মশলা। এটি মশলা হলেও, এর যথাযথ ব্যবহারে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

অদিমকাল থেকেই মহা উপকারি কালোজিরা মানবদেহের নানা রোগ প্রতিরোধ করতে ব্যবহার করা হয়।

শুধু কালোজিরাই নয় এর থেকে প্রাপ্ত তেলও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে।

কালোজিরায় রয়েছে, ক্যান্সারের মতো রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা। কারণ এত আছে কেরোটিন ও ক্যান্সার প্রতিরোধী বিভিন্ন হরমন।

আরো রয়েছে- আয়রণ, ফসফেট এবং ফসফরাস। কলোজিরা ডায়াবেটিকস রোগীদের রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

এছাড়া চায়ের সাথে নিয়মিত কালোজিরা খাওয়া বেশি উপকারি। দেহের রোগ প্রতিরোধের কাজ করার পাশাপাশি, কালোজির যৌন শক্তিও বৃদ্ধি করে।

তাই কালোজিরা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম সেরা উপায় হতে পারে।

৬। জিংক রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করেঃ

দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে এমন কয়েকটি খনিজ উপাদানের মধ্যে জিংক অন্যতম।

অন্যান্য খাদ্য উপাদানের মতো জিংক সুস্থ্য বজায় রাখতে জাদুকরি ভূমিকা রাখে।

জিংক একাই ৩০০ টিরও বেশি এনজাইমের ভূমিকা পালন করে। যার মধ্যে অন্যতম হলো- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, কোষ বিভাজন, কোষের বৃদ্ধি সাধন, ক্ষত নিরাময় করা, প্রোটিন ও ডিএনএ সংশ্লেষণ।

এটা থেকে বোঝা যায়, দেহে জিংকের অভাব থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে। সুতরাং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জিংকের গুরুত্ব অপরিসিম।

বাদাম, কুমরোর বীজ, লাল মাংশে জিংক থাকে! তাই জিংক সমৃদ্ধ খাবার আপনার রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করার অন্যতম সেরা উপায় হতে পারে।

৭। প্রোবায়োটিকস রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়ঃ

দুধ জাতীয় খাদ্যে থাকা ল্যাকটোব্যাসিলাস ও বিফিডোব্যাকটেরিয়াম হলো এমন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকটেরিয়ার পরিবার। এটি আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে।

তাই, প্রোবায়োটিক গ্রহণ করলে আমাদের অন্ত্রে এসকল ব্যাকটেরিয়া ভালো ভাবে বেঁচে থাকতে পারে। ফলে আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পায়।

সুতরাং প্রোবায়োটিন আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার বা বাড়ানোর অন্যতম সেরা উপায় হতে পারে।

৮। দৈনিক ১ টি আপেল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ

কথায় আছে প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে আর ডাক্তারের কাছে যেতে হয়না।

এর প্রধান কারন হলো আপেল দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে টনিকের মতো বৃদ্ধি করে।

আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্যান্সার রিসার্চ এর নিকট থেকে জানানো হয়েছে যে- আপেল খেলে অগ্ন্যাশয়ে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ২৩% কমে যায়।

এর কারণ হলো আপেলে থাকা ফ্ল্যাভোনল ক্যান্সারের মতো রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করে।

এছারাও আপেল,
– কোলেস্টেরল কমায়
– ডায়াবেটিকসে উপকার করে
– হার্ট ভালে রাখে
– ডায়রিয়ায় উপকার করে
– কষ্ঠকাঠিন্যর মতো রোগ প্রতিরোধ করে
– স্থুলতা প্রতিরোধ করে
– লিভারের রোগ প্রতিরোধ করে।

আপেলের রোগ প্রতিরোধ করার সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে অনেকেই রোজ একটি করে আপেল খেতে পরামর্শ দেন।

তাই যারা বিভিন্ন রোগে জর্জরিত, তারা নিয়মিত আপেল খেয়ে দেখতে পারেন।

সুতরাং আপেল আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার বা বাড়ানোর অন্যতম সেরা উপায় হতে পারে।

৯। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য লেবু খেতে হবেঃ

আমরা জানি, লেবু হলো ভিটামিন সি এর সেরা উৎস ! যা কিনা আমাদের স্বাস্থ্য জন্য উপকারি এবং রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

লেবু কিডনির স্টোন বা পাথর গলিয়ে ফেলতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, লেবু শরীরের চর্বি কমাতে সাহয্য করে এবং আপনাকে রোগ মুক্ত ও স্মার্ট রাখবে।

আবার লেবুর সরবত শরীলের পানি শূন্যতা দূর করে এবং আপনাকে রাখবে আরো প্রাণবন্ত।

লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড। যা একটি জৈব এসিড। এটি আমাদের উপকার করে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে রৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

আবার খাবার থেকে রক্তের আয়রণ শোষণ করতে লেবুর ভিটামিন ‘সি’ সাহায্য করে।

তাই দেহে যত ভিটামিন ‘সি’ থাকবে তত বেশি উপকার। তাই লেবু হতে পারে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সেরা খাবার।

তাই সতেজ ও সস্তা লেবু আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার অন্যতম সেরা উপায় হতে পারে।

১০। দুধ খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়েঃ

দুধ হলো অন্যতম একটি আদর্শ খাদ্য। ভিটামিন ‘সি’ ছাড়া সকল প্রকার ভিটামিন, খনিজ উপাদান দুধে রয়েছে।

তাই যারা দুধ বা দুগ্ধজাত খাদ্য এরিয়ে চলেন, তাদের পুষ্টি চাহিদা ঘাতটি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া স্বাভাবিক।

একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির জন্য ১ দিনে ৭০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয় এবং ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের জন্য ১ হাজার মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম প্রয়োজন।

দুধ খেলে খুব সহজেই এই ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

সবচেয়ে মজার ব্যপার হলো সামান্য পরিমানে দুধ খেয়ে আমরা যে পরিমান পুষ্টি পেতে পারি, অন্য খাবার থেকে এতো সহজেই সেই পরিমান পুষ্টি পাওয় যায় না।

ঠিক এই কারনেই দুধকে বলা হয় সর্ব গুণ সম্পন্ন সুপারফুড

তাই আপনার দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য খাবার তালিকায় দুধকে স্থান দিতে পারেন।

১১। ‍ডিম খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়েঃ

ঘন ঘন জ্বর সর্দি বা কাশিরি কবলে পরতে না চান তবে, নিয়মিত ডিম খাওয়ার অভ্যাস করুন।

কারণ ডিমে থাকে জিংক, যা আমাদের ইমিউনিটি সিস্টেমকে শক্তিশালী করে এবং আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

আবার, আজকাল আমাদের অনেকেরই কম বয়সেই বাত হয়! হার শক্তিশালী না হওয়া বা ক্ষয়ে যাওয়া মূলত ব্যথার কারন।

এক রিপোর্টে জানা গেছে ডিম হার্টে রক্ত জমাট বাধতে দেয় না। তাই নিয়মিত ডিম খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুকি কমে।

আবার ডিমে থাকা ভিটামিন ‘ই’ আমাদের কোষের ফ্রি রেডিকেল ধ্বংস করে। ফলে ক্যান্সারের ঝুকি কমে।

তাই রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য নিয়মিত ডিম খেতে পারেন।

মাত্র ১ টি ডিমে ১৪৩ ক্যালোরির মতো এনার্জি থাকে। কার্বোহাইড্রেট থাকে ০.৭২ গ্রাম, প্রোটিন থাকে ১২.৫৬ গ্রাম।

ডিমের এতো উপকারিতার ফলে আপনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যথেষ্ট বেড়ে যাবে।

তাই ডিম খাওয়ার অভ্যস আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম সেরা উপায় হতে পারে।

১২। ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে কলা:

কলা আমাদের সকলের পরিচিত প্রিয় ফল। মিষ্টি স্বাদের এই ফলটি বেশ সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর একটি খাবার। কলা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শারীরিক সমস্যা দূর করে।

প্রতি ১০০ গ্রাম কলায় রয়েছে ১১৬ ক্যালোরি, ৮৫ মি. গ্রাম ক্যালসিয়াম, ০.৬ মি. গ্রাম, এছাড়া রয়েছে ভিটামিন বি, বি৬।

এই ভিটামিন বি আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি করে।

এভাবে রক্তের শর্করা ঠিক থাকে এবং সাথে রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমান ঠিক রাখে এবং হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে দেয়। এর ফলে আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পায়।

এছাড়াও পাকা কলা খেলে দেহে টিএনএফ-এ নামক এক ধরণের যৌগ সৃষ্টি হয়।

এটি দেহের রোগ প্রতিরোধ করার পাশাপাশি রক্তের শ্বেত রক্ত কণিকা বাড়ায়।

ফলে ব্লাড ক্যান্সারে ঝুঁকি কমে। পাকা কলায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে।

ফলে প্রতি দিন মাত্র একটি করে পাকা কলা খেলে হার্ট ভালো থাকবে একং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যাবে।

এছাড়া কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রকৃতিক কার্বহাইড্রেট। এই কার্বো-হাইড্রেট আমাদের শক্তি যোগায়।

একারণে পরিশ্রমী ব্যক্তিদের অথবা খেলোয়ারেদের খাদ্য তালিকায় কলা স্থান পায়।

সুতরাং কলা খেয়ে আমরা নিজেদের সুস্থ্য সবল রাখতে পারি এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়।

১৩। খেজুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ

পুষ্টি বিচারে খেজুর সব চেয়ে সেরা ফল। মাত্র ১০০ গ্রাম খেজুরে রয়েছে ০.০৯ গ্রাম আয়রণ।

এছাড়া আরো রয়েছে, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, জিংক, ভিটামিন সহ আরো খনিজ। অন্যান্য যেকোনো ফলের তুলনায় খেজুর পুষ্টি ক্ষমতায় এগিয়ে।

খেজুরে রয়েছে ৩ ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ডায়াবেটিক্স এবং হার্টের রোগের ঝুঁকি কমায়।

খেজুরে রয়েছে প্রচু পরিমানে সেলুলোজ ও ফাইবার বা তন্তু। যা হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্টকাঠিন্য দূর করে।

এছাড়া খেজুরে রয়েছে ডায়েটারি ফাইবার, যা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল দূর করে।

তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে দেহকে সুস্থ্য সবল রাখতে নিয়মিত ৩ থেকে ৪ করে তাজা খেজুর খেতে পারেন।

১৪। সামুদ্রিক মাছ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ

শুনতে নতুন ও অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটা অবাক করার মতো বিষয় যে সামুদ্রিক মাছ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

কারন সামুদ্রিক মাছে রয়েছে ওমেগা ৩ এবং ওমেগা ৬ ফ্যাটি এসিড থাকে! এই ওমেগা জাতীয় খাবার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়।

তাই সামুদ্রিক মাছ, সামুদ্রিক মাছের তেল থেকে প্রাপ্ত ওমেগা ফ্যাটি এসিড আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে।

ফলে সামুদ্রিক মাছ আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম সেরা উপায় হতে পারে।

১৫। সবুজ শাক-সবজি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়ঃ

টাটকা ও সবুজ শাক-সবজিতে সকল প্রকর ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে। এগলো আমাদের দেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদান।

যেমন- বরবটি, শিম, বেগুন, ধনেপাতা, সবুজ শাক, কচু শাক, পুঁই শাক, পালং শাক ইত্যাদিতে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার যথেষ্ট উপাদানে ভরপুর।

আবার রঙিন শাক সবজি, যেমন লাল শাক সবজিতে রয়েছে বিটা ক্যারেটিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

এই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ভাইরাস জনিত রোগের বিরুদ্ধে রোগ প্রাতরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।

এছাড়া গাজর, মিষ্টি কুমড়া সহ বিভিন্ন রঙিন শাক সবজিতে রয়েছে ভিটািমিন ‘এ’ ! ভিটামিন এ চোখের রোগ প্রতিরোধ করার শক্তি বৃদ্ধি করে।

তাই রোগ প্রতিরাধ ক্ষমতাকে বুষ্ট করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেহকে সুস্থ্য সবল রাখতে নিয়মিত ৩ বেলা শাক-সবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

১৬। সতেজ ও টাটকা খাদ্য খেতে হবেঃ

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য ভালো খাবার গ্রহণ যেমন প্রয়োজন, তেমনি পঁচা বা বাসি খাবার ভুলেও গ্রহন করা যাবে না।

বিশেষ করে আমরা যখন বাহিরে বা রেস্তরায় খাবার খাই তখন বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।

আমাদের দেশে অনেক রেস্তরাতে আগের দিনের বেঁচে যাওয়া খাবার পুনরায় পরিবেশন করা হয়।

মনে রাখতে হবে বাসি খাবার থেকে বিষক্রিয়া হতে পারে। এছারা রাস্তার পাশের খোলা খাবার যে অনেক অসাস্থ্যকর তা আমাদের সকলের জানা। তাই, খোলা খাবার পরিহার করতে হবে।

আবার অনেক খাবার আছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পরিবর্তে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

যেমনঃ চিনি জাতীয় খাবার, কার্বোনেট বেভারেজ বা বিভিন্ন প্রকার কমল পানীয়, অতিরিক্ত লবন ঝালে ভাজা, কড়া তেলে ভাজা খাবার ইত্যাদি খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

১৭।রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিয়ম মাফিক ঘুমাতে হবেঃ

আমাদের অনেকেরই অজানা যে ঘুম শরীরেকে রোগ মুক্ত থাকতে সাহায্য করে। কারন কম ঘুমের কারনে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দূর্বল হয়ে পরে।

আমরা সহজেই জ্বর, সর্দি, কাশি সহ বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রান্ত হতে পারি। আবার কম ঘুম হলে দিনের বেলা ঘুম ঘুমভাব নিয়ে কোনো কাজে ঠিকমত মন দেয়া যায় না।

ঘুম কম হলে আমাদের ব্রেইন তার সবটুকু ক্ষমতা দিয়ে কাজ করতে পারে না।

বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দৈনিক কম পক্ষে ৭ ঘন্টা ঘুমাতে হবে।

তাই আপনার নিজের দেহকে নিরোগ রাখতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন কমকরে ৭ ঘন্টা ঘুমাবেন।

সকালে ঘুমতে থেকে উঠতে, হাঁটতে বের হবেন। এটাও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

১৮। নিয়মিত ব্যায়াম করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়েঃ

শারীরিক ব্যায়াম আমাদের দেহকে মজবুত ও শক্তিশালী করে । নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীল সুস্থ্য থাকার পাশাপাশি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।

যারা ভারি কাজ করেন না অথবা বসে বসে কাজ করেন, তাদের প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট দ্রুত বেগে হাঁটা অথবা ব্যায়াম করতে হবে।

ব্যায়ম করলে আপনি বিভিন্ন উপকারিতা পাবেন। যেমনঃ

  1. ব্যায়াম করলে দেহের রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। ফলে ব্যায়ামের মাধ্যমে হার্ট এর রোগে মৃত্যু ঝুঁকি কমানো যায়।
  2. নিয়মিত ব্যায়ামের ফলে দেহে জমাকৃত অতিরিক্ত মেদ/চর্বি ক্ষয় হয়; ফলে ওজন কমে।
  3. শারীরিক ব্যায়ামের কারণে ডায়াবেটিক্স বা বহুমূত্র রোগের ঝুঁকি কমে যায়।
  4. নিয়মিত ব্যায়াম করলে উচ্চ রক্ত চাপ কমে যায়।
  5. হজম শক্তি বাড়াতে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়মের কোনো বিকল্প নেই।
  6. ব্যাক পেইন বা পিঠের ব্যাথা দূর করতে নিয়মিত নিদির্ষ্ট যোগ ব্যায়াম করা উচিত।
  7. ব্যায়াম করলে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং রক্ত সংবহন তন্ত্র শক্তিশালী হয়। ফলে লি*ঙ্গ উত্থা*ন জনিত সমস্যার সুফল পাওয়া যায় এবং যৌ*ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

সুতরাং আর অলসতা না করে এখনই নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যস গড়ে তুলুন।

কারণ ব্যায়ামই আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার বা বাড়ানোর অন্যতম সেরা উপায় হতে পারে।

১৯। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মাদক ত্যাগ করতে হবেঃ

বিভিন্ন প্রকার মাদকের বিভিন্ন ধরনের কুফল থাকলেও, সকল প্রকার মাদকের একটি সাধারণ ক্ষতিকর দিক হলো- সকল মাদকই দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে।

আবার তামাকজাত দ্রব্য ফুসফুস ও হার্টের যথেষ্ট ক্ষতি সাধন করে। ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

অনেক মাদক আছে ক্ষুধা কমিয়ে দেয়। ফলে খাবারে অরুচি তৈরি হয়। এছাড়া অরো অনেক ক্ষতি হয়। যেমনঃ

  1. মাদক গ্রহণের কারণে চেহারা নষ্ট হয়।
  2. মেধা বা স্মৃতি শক্তি কমে যায়।
  3. শরিলের শক্তি কমে যায়।
  4. ফুসফুস ও হার্টের ক্ষতি হয়।
  5. হজম ক্ষমতা নষ্ট হয়।
  6. কিডনির ক্ষতি হয়।
  7. ব্রেইনের কোষ বা সেল ধ্বংস করে।
  8. লিভার সিরোসিস রোগ হয়।
  9. নেশা ও অবসাদ তৈরি করে।
  10. যৌন ক্ষমতা কমে যায়।

দেহ ও মনকে সুস্থ্য ও রোগ মুক্ত রাখতে মাদক দ্রব্য থেকে দূরে থাকতে হবে। মাদক গ্রহন কারী ব্যাক্তি থেকেও দূরে থাকতে হবে।

কারন মাদক গ্রহণ করে এমন ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকাও বিপদজনক। সুতরাং, মাদক কে না বলাই আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার অন্যতম সেরা উপায় হতে পারে।

২০। রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন থাকতে হবেঃ

পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা একদিকে সৌন্দর্যকে ধারন করে, অপরদিকে দেহকে রাখে রোগ মুক্ত।

পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার মাধ্যমে ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া সহ বিভিন্ন প্রকার রোগ থেকে দূরে থাকা যায়। এছাড়া সকল ধর্মই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

নিজেকে পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা যায়। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ছারা ঈশ্বরের উপাসনা করা যায় না।

দেহের ত্বক পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে খোস-পাঁচড়া, দাদ-একজিমা সহ বিভিন্ন প্রকার চর্ম রোগ থেকে মুক্তি মেলে।

নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখলে খাবার খাওয়ার সময় পেটে রোগ-জীবাণু প্রবেশ করেত পারে না।

তাই রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ও আমাদের সকলকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকেও বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

২১। রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়ুন:

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় কোনো প্রকার ওষধ খাওয়া মোটেই উচিত নয়।

কারণ অ্যান্টিবায়োটিক আমাদের দেহের স্বাভাবি ইমিউনিটি সিস্টেম নষ্ট করে।

বিশেষ করে এক টানা ১ সপ্তাহ ধরে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে আমাদের ক্ষুদ্রান্ত্র দূর্বল হয়ে পরে যা সেরে উঠতে কম করে ৩ সপ্তাহ সময় লাগে।

সুতরাং ব্যাকটেরিয়া ঘটিত কোনো সংক্রমণ না হলে, ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া যাবে না।

তাহলে আমাদের স্বাভাবিক ইমিউনিটি ঠিক থাকবে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

২২। শাল দুধ খেলে রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বৃদ্ধি হবেই:

দুগ্ধ পানকারী বা স্তন্যপায়ী প্রানীদের ক্ষেত্রে, তাদের বাঁচ্চা জন্মদানের পর পরেই তাদের স্তন থেকে বাঁচ্চাকে খাওয়ানোর জন্য যে দুধ বের হয়, তাকেই শাল দুধ বলে।

এই শাল দুধ অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এর রয়েছে জাদুকরী রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা।

কারণ, এই শাল দুধ প্রতিরক্ষামূলক অ্যান্টিবডিতে ভরপুর এবং ল্যাকটোফেরিন নামক শক্তিশালী উপাদানে পরিপূর্ণ।

প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যাক্তিরা এই শাল দুধ পান করার ফলে প্রদাহ রোধী বিশেষ উপাদান শরীলে গ্রহণ করতে পারেন।

২৩। মাশরুম রোগ প্রতিরোধ করেঃ

মাশরুম আমাদের সকলের কাছে পরিচিত হলেও, আমরা অনেকেই এটি খেতে অভ্যাস্ত নই। আবার মাশরুমের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আমাদের অনেকেরই অজানা।

কিন্ত, এই মাশরুমে রয়েছে ভাইরাসনাশক এবং ক্যান্সার প্রতিরোধী ক্ষমতা। ফলে মাশরুম দেহের রোগ প্রতিরোধী কোষের ব্যাকটেরিয়া নাশক ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

২৪। হলুদ রোগ প্রতিরোধ করে:

হলুদ আমাদের নিত্য ব্যবহার্য ও পরিচিত মশলা হলেও এর রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা আমাদের অনেকেরই অজানা।

হলুদ আমাদের রান্নার যেমন স্বাদ বাড়ায়, তেমনি ভাইরাস জনিত রোগ প্রতিরোধ করে এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

আবার জ্বর হলে রোগী যদি দুধের সাথে হলুদ মিশিয়ে খায়। তাহলে এই মিশ্রণ টি অ্যান্টিবায়োটিকের মতো কাজ করে।

তাই হলুদ আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম সেরা উপায় হতে পারে।

২৫। টক জাতীয় ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ

বিভিন্ন প্রকার টক জাতীয় ফলে অ্যাসকরবিক এসিড, এসিটিক এসিড, টারটারিক এসিড সহ জৈব এসিড থাকে।

যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি পায়।

তাই আমাদের নিয়মিত বিভিন্ন টক ফল খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। যেমন- আমলকি, লেবু, পেয়ারা, জাম্বুরা, শশা, কাচা মরিচ, কাঁচা আম, বরই, জলপাই ইত্যাদি উপকারি ফল।

সম্মানিত পাঠক, একটি রোগ মুক্ত দেহ যেমন আপনাকে সর্বদা সুস্থ্য রাখবে, তেমনি দেহের সুস্থ্যতা বজায় রাখতেও আপনাকে সর্বদা সচেতন থাকতে হবে।

মনে রাখতে হবে একটি স্বাস্থ্যকর দেহ গড়ে ওঠে শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে। একজন সচেতন মানুষের পক্ষে রোগ প্রতিরোধী দেহ গঠন সম্ভব।

তবে অবশ্যই স্বাস্থ্য টিপস মেনে চলবেন এবং প্রয়োজনে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করবেন।

নিয়মিত স্বস্থ্য টিপস পেতে আমাদের ফেসবুক পেজ ফলো করতে পারেন- স্বাস্থ্য বার্তা

Leave a Comment