সভ্যতা কাকে বলে এবং সভ্যতার গ্রহনযোগ্য প্রামান্য কয়েকটি সংজ্ঞা বিস্তারিত

সভ্যতা কাকে বলে এবং সভ্যতার গ্রহনযোগ্য ও প্রামান্য কয়েকটি সংজ্ঞা

বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাস

প্রিয় পাঠক, সভ্যতা কাকে বলে বা সভ্যতা বলতে আসলে কি বোঝায় – এটা নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা! কোনো অঞ্চল বা অঞ্চলসমূহে যখন একটি জনগোষ্ঠী নগরপত্তন করে উন্নততর জীবন ব্যবস্থা গড়ে তোলে; তখন তার ওই অগ্রগতির সহায়ক হিসেবে উদ্ভাবিত হয়- লিখন পদ্ধতি, আইন, সরকার, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সুস্পষ্ট ধর্মীয় দর্শন! মানব জাতির এসব আচরণের সম্মিলিত সমন্বয়কে বলা হয় সভ্যতা।

সভ্যতার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো সিভিলাইজেশন (civilization)। এই শব্দটি civis or Civitas শব্দ থেকে এসেছে! যার অর্থ নাগরিক। সিভিলাইজেশন শব্দটি আমাদের কাছে অতি পরিচিত যার আভিধানিক অর্থ হলো সভ্যতা।

দার্শনিক ভলতেয়ার সর্ব প্রথম সিভিলাইজেশন শব্দটি ব্যবহার করেন। এছাড়া; কোন অঞ্চল বা অঞ্চল সমূহের একটি জনগোষ্ঠী নগরপত্তন করে উন্নত জীবন ব্যবস্থা গড়ে তোলে, তখন; তার অগ্রগতির সহায়ক নিয়ামক হিসেবে উদ্ভাবিত হয় লিখন পদ্ধতি, আইন, সরকারব্যবস্থা, বাণিজ্য, নব প্রযুক্তি, শিক্ষা ও সুস্পষ্ট ধর্ম-দর্শন; তখন তাকে বলা হয় সভ্যতা। এ সভ্যতা সাধারণত মৌলিক ও জটিল সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল এর মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে।

সভ্যতা কাকে বলে এবং সভ্যতার গ্রহনযোগ্য প্রামান্য কয়েকটি সংজ্ঞা জেনে নিবঃ

বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী সভ্যতা সম্পর্কে বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। নিম্নে তার কয়েকটি সংজ্ঞা দেয়া হলোঃ

মন্টেস্কু এবং হান্টিংটন এর সভ্যতার সংজ্ঞা – সভ্যতা হচ্ছে ভৌগলিক তথা প্রাকৃতিক পরিবেশের আশীর্বাদপুষ্ট এক ফসল।

মর্গান তার এনসিয়েন্ট সোসাইটি গ্রন্থে বলেছেন- সভ্যতা হচ্ছে বিবর্তন নামক সিঁরিটির শীর্ষ ধাপ। যে সমাজে লেখ্য ভাষা ও বর্ণমালা রয়েছে; ধাতুর ব্যবহার রয়েছে ও লিখিত দলিল এর প্রচলন রয়েছে সেই সমাজকেই বলা হবে সভ্য।

টেলর এর সভ্যতার সংজ্ঞা – অভাব, প্রয়োজন ও তাগিদ থেকে সভ্যতা সৃষ্টি হয়। আর্নল্ড টয়েনবি তার এই মতের অন্যতম বড় সমর্থক।

ম্যাকাইভার ও পেজের মতে সভ্যতার সংজ্ঞাসভ্যতা অর্থে আমরা বুঝি মানুষ তার জীবন ধারণের ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকল্পে যে যান্ত্রিক ব্যবস্থা বা সংগঠন সৃষ্টি করেছে তারই সামগ্রিক রূপ! কেবল যে আমাদের সামাজিক সংগঠনের নানারূপ নীতি সভ্যতার অন্তর্গত তা কিন্তু নয়। বরং; নানাবিধ কারিগরি কলাকৌশল ও বাস্তব যন্ত্রপাতি এই সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত।

পাসকুলার জিসবার্ট এর মতে সভ্যতার সংজ্ঞা সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র হলো বহু জনমানব অধ্যুষিত নগরগুলো এবং এই সভ্যতা মানুষের সাংস্কৃতিক জীবনের একটি পরিণত স্তর।

পরিশেষে বলা যায়; ম্যাকাইভার সংস্কৃতি ও সভ্যতার মধ্যে পার্থক্য করতে গিয়ে বলেছেন; আমরা যা আছি তাই আমাদের সংস্কৃতি। আর আমাদের যা আছে তাই আমাদের সভ্যতা।

আরো পড়ুন- সংস্কৃতি কি ও কাকে বলে

সভ্যতা কাকে বলে তার সহজ সংজ্ঞা- সাধারণভাবে কোনো বিশেষ মানব গোষ্ঠী তাদের সামাজিক; অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড দ্বারা; কোনো বিশেষ ধরনের জীবনপ্রবাহ পরিচালনা করলে; বিশেষ সময় কালের পরিপ্রেক্ষিতে তখন তাকে সভ্যতা বলে।

সোর্স-ইন্টারন্টে..

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *