কাঁচা বা পাকা আম খাওয়ার উপকারিতা কি

কাঁচা বা পাকা আম খাওয়ার উপকারিতা কি কি বিস্তারিত জেনে নিন

ফলের উপকারিতা

প্রিয় পাঠক, আজ আমরা কাঁচা বা পাকা আম খাওয়ার কি কি উপকারিতা রয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। বাংলাদেশে ফলের কথা বললে; আমের কথা প্রথমেই চলে আসে। ফল হিসেবে আম আমরা সবাই অনেক পছন্দ করি; কারণ কাঁচা বা পাকা আম এর স্বাদ আমাদের সকলের মন কারে।

আম পরিচিতি:

আম এর বৈজ্ঞানিক নাম (Magnifier indica). আর আম এর ইংরেজি হলো ম্যাংগো বা Mango. এটা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় একটি ফল! প্রিয় পাঠক, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনেক বেশি পরিমাণে আম পাওয়া যায়; এবং সেগুলাে বহুল ব্যবহৃত হয় এবং আমে উল্লেখযােগ্য পুষ্টি উপকরণ থাকায় আমকে ফলের রাজা বলা হয়।

আমাদের বাংলাদেশে বৈশাখ থেকে জ্যৈষ্ঠ মাসে সবচেয়ে বেশি আম উৎপন্ন হয়। বাংলাদেশে বিভিন্ন বর্ণ, স্বাদ, ঘ্রাণ, আর আকার ও আকৃতির আম পাওয়া যায়। তবে; গুণগত ও পরিমাণগত দিক বিবেচনায় রাজশাহী জেলা, আম চাষের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। এছাড়া; রাজশাহী জেলা ঘেঁষে অবস্থিত ভারতের মালদহ জেলা, ভারতে আম উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।

আম মালয়েশিয়া ও ভারতে সবচেয়ে আগে থেকে আবাদ করা হতাে বলে ধারণা করা হয়। তবে; ভারতে আম চাষ শুরু হয়েছে প্রায় চার হাজার বছর আগে! উনিশ শতকে ব্যবসায়ীরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকাতে আমকে সুপরিচিত করে তােলে।

আরব দেশের বণিকগণ আম নিয়ে যান পারস্য ও মিশরে। এখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ যেমন; ভারত, বাংলাদেশ, চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে প্রচুর পরিমাণে আম চাষ হয়ে থাকে।

আমাদের বাংলাদেশ বিভিন্ন প্রকারের আম পাওয়া যায়। গােলাকার, উপবৃত্তাকার, বৃক্কসদৃশ্য ইত্যাদি আকারের আম পাওয়া যায়। আবার; প্রকাভেদে আমের স্বাদ ঘ্রাণ, ও পাল্পের ঘনত্ব বিভিন্ন হয়ে থাকে।

কি কি জাতের আম রয়েছে?

আমাদের দেশে যেসব আম উৎপন্ন হয় সেগুলাের মধ্যে উল্লেখযােগ্য হচ্ছে;

  1. ল্যাংড়া,
  2. ফজলি,
  3. আম্রপালি,
  4. সূর্যপুরী,
  5. আশ্বিনা,
  6. গােপালভােগ,
  7. মোহনভোগ,
  8. ক্ষিরসাপাত,
  9. দুধস্বর,
  10. লোকনা,
  11. কাঁচা মিঠা আম,
  12. মিসরিভােগ ও
  13. বিভিন্ন ধরনের দেশি আম।
পাকা আমের ছবি
পাকা আমের ছবি

বেশির ভাগ আম কাঁচা অবস্থায় খুব টক থাকে। যেমন; বিখ্যাত ল্যাংড়া আম কাঁচা অবস্থায় টক হয়। তবে; কাঁচামিঠা আম কাঁচা অবস্থায় খেতে টক লাগে না। আচার বানাতে সাধারনত কাঁচা আম ব্যবহার করা হয়।

ফজলি আম আমাদের দেশের বহুল পরিচিত একটি আম। আকারে একটি ফজলি আম ১ কেজি বা তার বেশিও হতে পরে! আঁশ বিহিন মাংসল ও চ্যাপ্টা বীজ হওয়ায় এই আমের চাহিদা বেশি থাকে।

কাঁচা আম বা পাকা আমের পুষ্টিগুন কেমন ?

আম কাঁচা হোক বা পাকা হোক, এটি অতি পুষ্টিকর একটি ফল। অন্যান্য ফলের তুলনায় আমে বিটা ক্যারোটিনের পরিমাণ থাকে অনেক বেশি! প্রায় ১০০ গ্রাম ভক্ষণীয় আমে প্রায় ১৯৯০ মাইক্রোগ্রাম বিটাক্যারোটিন রয়েছে! পাকার সময়ের উপর আমের ক্যারেটিনের কম-বাড়া নির্ভর করে।

মৌসুমে পাকা আম খেলে তা যকৃহে ভিটামিন ‘এ’ হিসেবে জমা থাকে; এবং এর স্থায়িত্বকাল এক বছর পর্যন্ত হতে পারে। কাঁচা আম বা পাকা আমে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ আছে। ১০০ গ্রাম আমে প্রায় ১৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি রয়েছে।

কাঁচা আম থেকে পাকা আমে বেশি ক্যালরি উৎপন্ন হয়! পাকা আম পটাশিয়ামের জন্য একটি উৎকৃষ্ট উৎস। আবার; পাকা আমে বিটা-ক্যারটিন পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকায় দেহের সাধারণ বৃদ্ধি, প্রজনন ও দৃষ্টিশক্তির জন্য এর ব্যবহার অভ্যন্তৰােজন।

কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস এবং হৃদরােগের ক্ষেত্রে কাঁচা বা পাকা আম ইঙ্গিবাচক ভূমিকা রাখে এবং অক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে!  আম কিছু কিছু ক্ষেত্রে কালার প্রতিরোধেও কাজ করে থাকে। তবে; যাদের জন্য পটাশিয়াম ক্ষতিকর, যেমন; কিডনি রােগী তাঁদেরকে আম খেতে নিষেধ করা হয়।

প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা আম ও পাকা আমের পুষ্টিমান:

১০০ গ্রাম কাঁচা আমের পুষ্টিমানের তালিকা:

পুষ্টি উপাদানপরিমান
প্রোটিন০.৭ গ্রাম
ফ্যাট০.১ গ্রাম
খনিজ লবণ০.৪ গ্রাম
ফাইবার১.২ গ্রাম
কার্বহাইড্রেট ১০.১ গ্রাম
শক্তি৪৪ কি. ক্যালরী
ভিটামিন সি৩ মিলিগ্রাম
ক্যারোটিন৯০ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম৮৪ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম৪৩ মিলিগ্রাম
ক্যালসিয়াম১০ মিলিগ্রাম
লৌহ০.৩৩ মিলিগ্রাম
ফসফরাস১৯ মিলিগ্রাম
প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা আমের পুষ্টিমান

১০০ গ্রাম পাকা আমের পুষ্টিমানের তালিকা:

পুষ্টি উপাদানপরিমান
প্রোটিন০.৬ গ্রাম
ফ্যাট০.৪ গ্রাম
খনিজ লবণ০.৪ গ্রাম
ফাইবার০.৭ গ্রাম
কার্বহাইড্রেট ১৬.৯ গ্রাম
শক্তি৭৪ কি. ক্যালরী
ভিটামিন সি১৬ মিলিগ্রাম
ক্যারোটিন২২১০ মিলিগ্রাম
পটাশিয়াম২০৫ মিলিগ্রাম
সোডিয়াম২৬ মিলিগ্রাম
ক্যালসিয়াম১৪ মিলিগ্রাম
লৌহ১.৩ মিলিগ্রাম
ফসফরাস১৬ মিলিগ্রাম
১০০ গ্রাম পাকা আমের পুষ্টিমান

কাঁচা বা পাকা আমের ব্যবহার:

আম অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা সরাসরি খেয়ে থাকি। তবে; বিশেষ করে পাকা আম আমরা চিড়ার সাথে বেশি খেয়ে থাকি। অপরদিকে; প্রক্রিয়াজাতকৃত আমের জগতে কাঁচা আমের আচার সব চেয়ে বড় স্থান দখল করে আছে।

অপরদিকে পাকা ও কাঁচা আমের জুস বা ড্রিংকের ব্যবহারও কম নয়! ব্যবসায়িক বা শিল্পভিত্তিক অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত আম সামগ্রীর মধ্যে উল্লেখযােগ্য হচ্ছে:

  1. স্কোয়াশ,
  2. চাটনি,
  3. জ্যাম,
  4. জেলী,
  5. আমসত্ত্ব,
  6. আমের মোরব্বা,
  7. আচার,
  8. পাওডার,
  9. ক্যানডি ইত্যাদি।

সারা বছর আম সংরক্ষণ করে রাখার উপায় জেনে নিন.

কাঁচা বা পাকা আম খাওয়ার উপকারিতা কি কি?

  1. কাঁচা আম ক্যারােটিন ও ভিটামিন সমৃদ্ধ ফল, যা আমাদের চোখের দৃষ্টি বাড়াতে সাহায্য করে, রাত কানা রােগের হাত থেকে রক্ষা করে; এবং চোখ ভালাে রাখে।
  2. আমে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। আমে থাকা এই ভিটামিন শরীরের স্নায়ুগুলােতে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়! শরীরকে রাখে সতেজ। ঘুম আসতে সাহায্য করে।
  3. আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি! আর পাকা আমের তুলনায় কাঁচা আমে ভিটামিন সি এর পরিমাণ বেশি! তাই, কাঁচা আম খাওয়ার মাধ্যমে আমরা ভিটামিন সি এর অভাব দূর করতে পারি।
  4. আমে বিটা ক্যারােটিন, ভিটামিন ই এবং সেলেনিয়াম থাকায় হার্টের সমস্যা প্রতিরােধে সাহায্য করে! এজন্য আম খাওয়ার মাধ্যমে আমরা হার্টের উপকারিতা পেতে পারি।
  5. আমের মধ্যে আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট! যা বিভিন্ন রকম ক্যান্সার প্রতিরােধে সহায়তা করে। যেমন; স্তন ক্যান্সার, লিউকেমিয়া, কোলন ক্যান্সার, প্রােস্টেট ক্যান্সার ইত্যাদি।
  6. আমে খনিজ লবণের উপস্থিতিও রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে! দাঁত, নখ, চুল, মজবুত করার জন্য আমের খনিজ লবণ উপকারী ভূমিকা পালন করে।
  7. আমে রয়েছে প্রচুর এনজাইম! যা শরীরের প্রােটিনের অণু গুলাে ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে। যার ফলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।
  8. প্রতিদিন আম খেলে দেহের ক্ষয় রােধ হয় ও স্থূলতা কমে যায়; এবং শারীরিক গঠনে ইতি বাচক ভূমিকা পালন করে।
  9. আম খেলে মোটা ব্যক্তিদের রক্তে শর্করার পরিমাণ হ্রাস পায় এবং দেহে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
  10. আমে রয়েছে ম্যালিক অ্যাসিড; সাইট্রিক অ্যাসিড ও টারটারিক অ্যাসিড; যা শরীরে ক্ষার ধরে রাখে।
  11. ত্বকের যত্নেও আম অনেক উপকারি! আম খাওয়ার ফলে লােমের গােড়া পরিষ্কার হয়; ফলে ব্রণ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং ত্বক উজ্জ্বল করে।
  12. কাঁচা আমে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকায় রক্ত স্বল্পতা সমস্যা দূর হয়, আবার শরীরের রক্ত পরিস্কার থাকে।
  13. আম প্রচুর ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় কোষ্টকাঠিণ্য দূর করে।
  14. আম খাওয়ার ফলে স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি পায়।
  15. দাঁতের রােগ প্রতিরােধ করে।
  16. কিডনির সমস্যা প্রতিরােধ সাহায্য করে ।
  17. আম খাওয়ার ফলে আমাদের লিভার ভালাে থাকে।
  18. পটাশিয়ামের অভাব পূরণ করে।
  19. আম খাওয়ার কারনে আমাদের অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  20. পাকা আম ক্ষুধা মেটায়। ভাতের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

আমের আরো বিশেষ উপকারিতা:

২১। পােড়া ঘায়ে আমের উপকারিতা:
আগুনে পুড়ে গিযে ঘা হলে; আম পাতার পােড়া ছাই, অর্থাৎ পাত্রের মুখ লেপে শুকিয়ে পােড়াতে হবে, সেটা কালাে হবে। ঘিয়ে মিশিয়ে লাগালে পােড়া ঘা শুকিয়ে যায়।

২। পা ফাটায় আমের ব্যবহার:
যাঁদের পা ফেটে চৌচির হয়ে যায়; তাঁদের ফাটা আরম্ভ হলে প্রথম থেকেই ঐ ফাটায় আম গাছের আঠা লাগালে আর বাড়েনা; তবে আমের আঠার সঙ্গে কিছু ধনের গুঁড়াে মিশিয়ে দিলে আরও ভাল হয়।

২৩। নখ কুনি সারাতে আমের উপকারিতা:
যাঁরা নখ কুনিতে কষ্ট পান, তাঁরাও আম গাছের নরম আঠার সঙ্গে; একটু ধুনাের গুড়া মিশিয়ে নখের কোণে টিপে দিলে এ থেকে রেহাই পাবেন।

২৪। মাথার চুল পরা বন্ধে আমের ব্যবহার:
কচি আমের আঁঠির শাঁস ঘেঁতাে করে; জলে ভিজিয়ে ছেঁকে নিয়ে; সেই জল শুষ্ক চুলের গােড়ায় লাগালে; চুল উঠে যাওয়া উল্যেখযােগ্য ভাবে কমে যায়; এবং ঐ সময় মাথায় কোনো তেল ব্যবহার না করাই ভাল।

২৫। চুল পাকা বন্ধ করতে আমের কুশি:
ঘেঁতাে করা আমের কুশি ৫/৬ গ্রাম নিতে হবে; এবং শুকনাে আমলকী ২/৩ টুকরাে এক সঙ্গে ১০/১২ চা চামচ নিয়ে; লােহার পাত্রে জলে ভিজিয়ে সেটা ছেঁকে নিয়ে চুলে লাগালে অকাল পক্কতা রােধ করে।

২৬। খুস্কি দূর করতে আমের উপকারিতা:
আমের কুশি ও হরীতকী এক সঙ্গে দুধে বেটে মাথায় লাগালে খুস্কি কমে যাবেই; তবে মেয়েদের ক্ষেত্রে উচিত ও টাকে হেঁকে নিয়ে মাথায় লগানাে।

৭। আমাশয় রোগে আমের উপকারিতা:
কচি আম পাতা ও জাম পাতার রস (২/৩ চা চামচ) একটু গরম করে খেলে আমাশায় রোগ ভালো হয়।

২৮। বমি বমি ভাবে দূর করতে:
যাঁদের শরীরে দাহ বেশী এবং বমি বমি ভাব প্রায়ই ঘটে, তাঁরা আম পাতা (৩৪টি) জলে সিদ্ধ করে; সেই জলটাকে সমস্ত দিনে একটু একটু করে খেলে; দাহ ও বমির ভাবটা চলে যাবে।

৯। দাঁত ভালো রাখতে আমের উপকারিতা:

কচি আম পাতা চিবিয়ে তা দিয়ে দাঁত মাজলে অকালে দাঁত নড়েওনা, পড়েওনা। এছাড়াও; দাঁতের বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।

৩০। রক্ত পড়া বন্ধ করতে আমে উপকারিতা:
আঁঠির শাঁসের রসের বা গুড়াের নস্যি নিলে নাক দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ হয়! তবে ব্লাড প্রেসারের রক্ত পড়া বন্ধ করা উচিত নয়।

৩১। প্রদর দূর করে কাঁচা আম:
কাঁচা আমের বীজের শাঁসের গুঁড়াে ১০/১২ গ্ৰেণ মাত্রায় জল দিয়ে খেল শ্বেত প্রদর কমে যায়! আমের ফুল বা মুকুল চায়ের মত করে পান করলে প্রদর সারে।

৩২। অতিসারে আমের উপকার:
আমগাছের ছালের উপরের স্তর টা চেঁছে ফেলে দিয়ে; সেই ছাল গরুর দধিতে বেটে খেলে; পেট গুড়গুড় শব্দ ও পাতলা দাস্ত বন্ধ হয়; এবং সে জন্য চাল ধােয়া জলের সঙ্গে খেলে পক্কাতিসারের উপশম হয়।

৩৩। রক্তপিত্তে আমের উপকারিতা:

এই রােগীর জন্য খুব মিষ্টি পাকা আম ঔষধ ও পথ্য রূপে ব্যবহার করতে হয়।

৩৪। প্লীহা বৃদ্ধিতে:
পাকা আম থেকে মিষ্টি রস বের করে ৭/৮ চা চামচ মাত্রায় ২-১ চা চামচ মধু মিশিয়ে খেলে; প্লীহাবৃদ্ধি ও তজ্জনিত রোগের উপসর্গের উপশম হয়। তবে; বায়ু প্রধান প্লীহা রােগেই ব্যবহার করতে হবে।

৩৫। অজীর্ণে আমের উপকার:
অতিরিক্ত মাছ খাওয়ার জন্য অজীর্ণ হলে; সে জন্য কাঁচা আম সেবন করতে হবে। আবার; অতিরিক্ত মাংস খেয়ে অজীর্ণ হলে আমের আঁঠির শাঁস খেতে হবে।

৩৬। পাঁচড়ায় আমের উপকারিতা:
আমের আঠা লেবুর রস অথবা তৈলে মিশিয়ে পাঁচড়ায় ব্যবহার করলে পাঁচড়া থেকে আরোগ্য হয়।

৩৭। ডায়রিয়ায় আমের উপকারিতা:
আম বীজের শাঁসের ক্বাথ বের করে আদার রস সহ খেতে হবে।

৩৮। ডায়াবেটিকস্ রোগে আমের উপকারিতা:
কারো ডায়াবেটিকস্ হলে, আমের নতুন পাতা শুকিয়ে গুড়ােকরে ব্যবহার করলে বহুমুত্র বা ডায়াবেটিকস্ নিয়ন্ত্রণে আসবে।

কাঁঠালের অজানা উপকারিতা জেনে নিন..

৩৯। গলা ব্যাথা হলে আম পাতার উপকারিতা:
আম পাতার ধোঁয়া তৈরি করে, গলা ব্যাথা নিবারিত করা যায়।

৪০। রক্ত আমাশয় হলে:
আম গাছের ছালের রস ১/২ চা চামচ মাত্রায় আধ পােয়া ছাগলের দুধ দিয়ে মিশিয়ে খেলে রক্ত আমাশায় সেরে যায়। তবে; এর সঙ্গে একটু চিনি, না হয় মধু মিশিয়ে খেতে হবে।

আমের আরো অর্থনৈতিক গুরুত্ব:

আমাদের দেশে আমের মৌসুমে একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক বাজার তৈরি হয়। অনেক আম চাষিরা শুধু মাত্র বছরে একবার এক ফসল আবাদ হিসেবে আম চাষ করেন! তাদের এই আয় দিয়ে প্রায় সারা বছর চলে।

আম পাকার মৌসুমে অনেক শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। আম গাছের যত্ন নেয়া থেকে শুরু করে, আম বাগানের দেখাশোনা করা; আম বাগান পাহারা দেয়া, আম পারা, আম পরিবহন করা, আম বাজারজাত করা, আম প্যাকিং করা সহ; অনেক শ্রমখাত তৈরি হয়।

মৌসুমী আম ব্যবসায়ী হিসেবে অনেকে, শুধু মাত্র আম নিয়ে ব্যবসা করে থাকেন। অল্প পুঁজি খাটিয়ে বিরাট মুনাফা লাভ করা যায়! যেমন, স্থানীয় চাষীর কাছ থেকে অল্প দামে, পােইকারী রেটে আম কিনে নিয়ে; বাজারে বিক্রি করা সহ, বিভিন্ন ভাবে আম নিয়ে ব্যবসা করা যায়।

অনলাইনে আমের বিজনেস করেও এখন অনেকে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। অনেক বেকার ভাই-বোন, ফেসবুক পেজ বা ওয়েব সাইটের মাধ্যমে; আমের প্রচার চালিয়ে আম বেচা-কেনার বিড়াট মার্কেট তৈরি করেছেন। এখানে আম প্যাকেট করা, ডেলিভারী ও পরিবহন সহ নতুন শ্রম বাজার তৈরি হচ্ছে।

উৎস-ইন্টারনেট

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *