বিগত বছরের সকল সরকারি চাকরির পরিক্ষায় বাংলাদেশের সংবিধান থেকে সকল সরকারি চাকরির পরিক্ষায় প্রশ্ন আসতে দেখা যায়।
সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাস, সংবিধান প্রণয়ন কমিটি, সংবিধানের অধ্যায় ও ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ থেকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়।
আবার বিসিএস সহ অনেক চাকরির ভাইবাতেও সংবিধান থেকে প্রশ্ন করা হয়। আজকের আলোচনায় সংবিধান থেকে ১০০% কমন উপযোগী কিছু প্রশ্নোত্তর আলোচনা করব।
সংবিধান কি ও কাকে বলে:
- একটি রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি – সংবিধান।
- সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার – মৌলিক দলিল।
- সরকার কিভাবে নির্বাচিত হবে, আইন শাসন ও বিচার বিভাগ কিভাবে গঠিত হবে এবং জনগন ও সরকারের সম্পর্ক কেমন হবে এসব বিষয় সংবিধানে উল্লেখ থাকে।
- তাই সংবিধানকে রাষ্ট্রের চালিকা শক্তি বলা হয়।
সংজ্ঞা : রাষ্ট্র বিজ্ঞানের জনক এরিস্টটলের মতে “ সংবিধান হলো এমন একটি জীবন পদ্ধতি যা রাষ্ট্র স্বয়ং নিজে বেছে নিয়েছে”।
সংবিধানের উৎস:
সংবিধানের উৎস ২ ভাবে বিভক্তঃ
১। আইনমূলক,
২। প্রথামূলক।
সংবিধানে প্রকার:
- যে সংবিধান এক বা একাধিক দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে তাকে লিখিত সংবিধান বলা হয়। বাংলাদেশ, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপানের সংবিধান লিখিত।
- অলিখিত সংবিধান কোন নির্দিষ্ট দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে না। এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের শাসন সম্পর্কিত বিষয়াদি প্রচলিত প্রথা রীতিনীতি, দেশাচার এবং বিচার বিভাগীয় সিদ্ধানের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত থাকে।
তবে অলিখিত সংবিধানের কিছু অংশ লিখিত থাকতে পারে।
যেমন: যুক্তরাজ্যের সংবিধান।
আবার, সংবিধান ২ প্রকার হতে পারে। যেমন: লিখিত ও অলিখিত।
লিখিত : যার ধারা বা নিয়মাবলী কোন দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে। যেমন- বাংলাদেশ , ভারতের সংবিধান।
অলিখিত : যার ধারা বা নিয়মাবলী কোন দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে না। যেমন- যুক্তরাজ্য, স্পেনের সংবিধান।
সংবিধানের প্রকারভেদ (সংশোধন পদ্ধতি অনুযায়ী)
১। সুপরিপর্বতনীয়
২। দুষ্পপরিবর্তনীয়
বাংলাদেশের সংবিধান থেকে বারবার আসা বিগত প্রশ্ন:
- বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংবিধান – ভারতের সংবিধান।
- বিশ্বের সবচেয়ে ছোট সংবিধান – যুক্তরাষ্ট্রের (আমেরিকার)।
- সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের – মৌলিক আইন।
- বাংলাদেশের সংবিধান – লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয়।
- অলিখিত সংবিধান হচ্ছে- স্পেন, ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড ও সৌদি আরবের সংবিধান।
- স্বাধীনতার পরে রাষ্ট্রপতি অস্থায়ী সাংবিধানিক আইন জারি করেন – ১১ জানুয়ারি ১৯৭২।
- বাংলাদেশ সংবিধান রচনার ১ম পদক্ষেপ – গণ পরিষদ আদেশ জারি।
- গণ পরিষদ আদেশ জারি করা হয় – ২৩ মার্চ, ১৯৭২।
- গণ পরিষদে প্রথম অধিবেশন বসে – ১০ এপ্রিল, ১৯৭২।
- গণপরিষদে সদস্য ছিলো – ৪০৩ জন।
- গণ পরিষদের ১ম স্পিকার – শাহ আব্দুল হামিদ।
- গণ পরিষদের ১ম ডেপুটি স্পিকার ছিলো – মোহাম্মদ উল্লাহ।
- সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য ছিলো – ৩৪ জন।
- বাংলাদেশের সংবিধান রচনা করা হয় – ভারত ও ব্রিটের সংবিধানের আলোকে।
- খসড়া সংবিধান গণ পরিষদে উত্থাপন করা হয় – ১২ অক্টোবর, ১৯৭২।
- গণ পরিষদের খসড়া সংবিধান গৃহীত হয় – ৪ নভেম্বর, ১৯৭২।
- সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময় রাষ্ট্রপতি ছিলেন – বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী।***
- তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন – শেখ মুজিবুর রহমান।
- সংবিধান কার্যকরী হয় – ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২।
- গণ পরিষদের সদস্যরা হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন – ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে।
- হস্তলিখিত খসড়া সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর করেন – শেখ মুজিবুর রহমান।
- হস্তলিখিত মূল সংবিধানে কতজন সদস্য স্বাক্ষর করেন – ৩৯৯ জন।
- হস্ত লিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেননি – সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত (ন্যাপ এর সদস্য)।
- বাংলাদেশের ১ম হস্তলিখিত সংবিধান কত পাতার ছিলো — ৯৩ পাতার।
- ১ম হস্তলিখিত সংবিধানের মূল লেখক ছিলেন – অব্দুর রউফ।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধানের অঙ্গসজ্জা করেন – শিল্পি জয়নুল আবেদিন।
- বাংলাদেশের সংবিধানের জনক বা রুপকার বলা হয় – ড. কামাল হোসেনকে।
- সংবিধান দিবস – ৪ নভেম্বর।
- বাংলাদেশের সংবিধান রচিত ২টি ভাষায় – বাংলা এবং ইংরেজি।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ধারা বা অনুচ্ছেদ রয়েছে – ১৫৩ টি।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় রয়েছে – ১১টি।
বাংলাদেশের সংবিধান থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ:
- ধারা ০১ – প্রজাতন্ত্র।
- ধারা ০২ – প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- ধারা ০৩ – রাষ্ট্রভাষা।
- ধারা ০৪ – জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক।
- ধারা ০৭ – সংবিধানের প্রাধান্য।
- ধারা ০৮ – মূলনীতিসমূহ।
- ধারা ১২ – ধর্ম নিরেপেক্ষতা।
- ধারা ১৫ – মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
- ধারা ১৭ – অবৈতিনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা।
- ধারা ১৮ – জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকত।
- ধারা ২০ – অধিকার ও কর্তব্যরুপে কর্ম।
- ধারা ২১ – নাগরিক ও সরকারী কর্মচারিদের কর্তব্য।
- ধারা ২২- নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ।
- ধারা ২৫ – আন্তর্জাতিক শাস্তি, নিরাপত্তা ও সহতির উন্নয়ন।
- ধারা ২৭ – আইনের দৃষ্টিতে সমতা।
- ধারা ২৮ – ধর্মীয় প্রভৃতি কারণে বৈষম্য…।
- ধারা ২৯ – সরকারি নিয়োগ লাভে সুযোগের সমতা।
- ধারা ৩৬ – চলাফেরার স্বাধীনতা।
- ধারা ৩৭ – সমাবেশের স্বাধীনতা।
- ধারা ৩৯ – চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা।
- ধারা ৪০ – পেশা ও বৃত্তির স্বাধীনতা।
- ধারা ৪১ – ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- ধারা ৪৭ – কতিপয় আইনের হেফাজত।
- ধারা ৪৮- রাষ্ট্রপতি।
- ধারা ৪৯ – ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকার।
সংবিধান থেকে আরো কিছু অনুচ্ছেদ :
- ধারা ৫০ – রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ।
- ধারা ৫২ – রাষ্ট্রপতির অভিশংসন।
- ধারা ৫৭ – প্রধানমন্ত্রী পদের মেয়াদ।
- ধারা ৫৯ – স্থানীয় শাসন।
- ধারা ৬১ – সর্বাধিনায়কতা।
- ধারা ৬৩ – যুদ্ধ।
- ধারা ৬৪ – অ্যাটর্নী জেনারেল।
- ধারা ৬৫ – সংসদ প্রতিষ্ঠা।
- ধারা ৭০ – পদত্যাগ ইত্যাদির কারণে আসন বা ভোটদান করলে অর্থদন্ড।
- ধারা ৭৫ – কর্যপ্রণালী বিধি।
- ধারা ৭৭ – ন্যায়পাল।
- ধারা ৮১ – অর্থবিল।
- ধারা ৮৭ – বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি।
- ধারা ৯৩ – অধ্যাদেশ প্রণয়ন ক্ষমতা।
- ধারা ৯৪ – সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- ধারা ৯৬ – বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- ধারা ১০৬ – সুপ্রীম কোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার।
- ধারা ১১৭ – প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল।
- ধারা ১১৮ – নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠা।
- ধারা ১২১ – প্রতি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা।
- ধারা ১২২ – ভোটার তালিকার মানভূক্তির যোগ্যতা।
- ধারা ১২৭ – মহা হিসাব-নিরীক্ষক পদের প্রতিষ্ঠা।
- ধারা ১৩৭ – কর্মকমিশন প্রতিষ্ঠ।
- ধারা ১৪৫ – চুক্তি ও দলিল।
- ধারা ১৪৬ – বাংলাদেশের নামে মামলা।
- ধারা ১৫০ – ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
বাংলাদেশের সংবিধানের সংশোধনী:
- মোট সংশোধনী – ১৭ বার।
- ১৫তম সংশোধনী হয় – ৩০ জুন ২০১১ সালে।
- ১ম সংশোধনী হয় – ১৫ জুলাই ১৯৭৩ (যুদ্ধাপরাধীদের বিচার)।
- ২য় সংশোধনী হয় – ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ (জরুরি অবস্থা ঘোষণা)।
- ৩য় সংশোধনী হয় – ২ নভেম্বর ১৯৭৪ (ভারতকে বেড়ুবাড়ি স্থানান্তর)।
- ৪র্থ সংশোধনী হয় – ২৫ জানুয়ারী, ১৯৭৫ (একদলীয় রাজনীতি ও বাকশাল চালুকরণ)
- ৮ম সংশোধনী হয় – ৭ জুন ১৯৮৮ (রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলাম+ Dhaka + Bangla বানান)
- ১২তম সংশোধনী হয় – ৬ আগষ্ট, ১৯৯১ (সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রবর্তন)
- ১৩তম সংশোধনী হয় – ২৭ মার্চ, ১৯৯৬ (তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন)
- ১১তম সংশোধনী হয় – ৬ আগষ্ট, ১৯৯১ (অস্থায়ী বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদের স্বপদে..)
- ১৭তম সংশোধনী হয় – ৮ জুলাই ২০১৮ (নারীর সংরাক্ষিত আসনের মেয়াদ বৃদ্ধি)