নগর বিপ্লব বা নগরায়নের উপর গর্ডন চাইল্ডের ১০টি বৈশিষ্ট্য

নগর ‍বিপ্লব কথাটি সর্ব প্রথম ব্যবহার করেন- ভি. গর্ডন চাইল্ড। শুধু তাই নয় নগর ‍বিপ্লব বা নগরায়নের উপর উল্লেখ করা গর্ডন চাইল্ডের ১০টি বৈশিষ্ট্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচিত।

নৃবিজ্ঞান ও প্রত্নতত্ত্ব অনুসারে ছোট গ্রামের, পরিবার ভিত্তিক, কৃষিনির্ভর ব্যবস্থা রুপান্তরিত হয়ে এক বিশাল সামাজিক জটিল কোনো নগরে পরিণত হওয়াই হলো নগর বিপ্লব।

গর্ডন চাইল্ড ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার একজন আর্কিওলোজিস্ট।

১৯৩৬ সালে প্রকাশ হওয়া, ”ম্যান মেকস্ হিমসেল্ফ (Man makes Himself)” নামক বইতে গর্ডন চাইল্ড প্রথম নগর বিপ্লব সম্পর্কে আলোচনা করেন।

এরপরে ১৯৫০ সালে “Town Planning Review” নামক একটি জার্নালে প্রকাশ হওয়া আর্টিকেলে- গর্ডন চাইল্ডের নগর বিপ্লবের উপর ১০টি বৈশিষ্ট্য প্রকাশিত হয়।

নগর বিপ্লবের উপর চাইল্ডের এই ১০টি বৈশিষ্ট খুবই বিখ্যাত।

নগর ‍বিপ্লব বা নগরায়নের উপর গর্ডন চাইল্ডের ১০টি বৈশিষ্ট্য:

নিচের ছকে সংক্ষিপ্ত আকারে চাইল্ডের নগরায়নের ১০টি বৈশিষ্ট্য দেয়া হলোঃ

অনেক জনসংখ্য ও ঘন বসতি থাকবে।
কারিগর ও পেশাজীবী মানুষ থাকবে।
খাজনা দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
নির্মান ও স্থাপত্য থাকতে হবে।
শাসক শ্রেণি থাকবে।
লিখন পদ্ধতি থাকবে।
জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা থাকতে হবে।
শিল্পকলার বিকাশ ও চর্চা হবে।
উৎপাদন নির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা।
১০দক্ষ কারিগর কর্মে নিয়োজিত থাকবে।
(নগরায়নের উপর চাইল্ডের ১০টি বৈশিষ্ট্য)

নগরে ১০টি বৈশিষ্ট্য থাকার গুরুত্ব:

উপরে উল্লিখিত ১০ টি বৈশিষ্ট্য ছাড়া নগর গড়ে ওঠা, তথা নগরায়ন সম্ভব নয়।

যেমন, গর্ডন চাইল্ড তার প্রথম বৈশিষ্ট্যতে বলেছেন যে, নগর গড়ে উঠতে হলে- সেখানে অনেক জনসংখ্য ও ঘন বসতি থাকতে হবে। কেননা জনসংখ্য ছাড়া নগর কল্পনাও করা যায়না।

আবার একটি নগরের অধিক জনসংখ্যার জীবন-যাত্রাকে সহজ ও আরামদায়ক করার জন্য সেখানে কারিগর শ্রেণি সহ বিভিন্ন পেশাজীবীর প্রয়োজন।

নগর জীবনের বিভিন্ন কাজ ও অবকাঠামোর জন্য ও শাসন পরিচালনার জন্য অর্থ প্রয়োজন।

ফলে গর্ডন চাইল্ড তার বৈশিষ্ট্যতে খাজনা বা কর প্রদানের মাধ্যমে অর্থ প্রাপ্তির ব্যবস্থা রেখেছেন।

রাস্তা-ঘাট, বাসস্থান, ধর্মীয় ও প্রশাসনিক সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নত স্থাপনা ও নির্মান নগরের বৈশিষ্ট্য। এজন্য নগরে অবশ্যই স্থাপনা ও উন্নত নির্মান থাকবে।

একটি নগরের কার্য পরিচালনার জন্য অবশ্যই একটি শাসক শ্রেণির প্রয়োজন।

বিধায় নগরের একটি শাসক শ্রেণি থাকবে।

গর্ডন চাইল্ড, লিখন পদ্ধতি ও জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চাকে নগরায়নের অন্যতম ২টি বৈশিষ্ট্য হিসেবে স্থান দিয়েছেন।

কেননা জ্ঞান চর্চা ও লিখন ব্যবস্থা ছাড়া উন্নত নাগরিক জীবন কল্পনাও করা যায় না।

শিল্পকলা চর্চা- অগ্রগতি ও অধুনিকতার নির্দেশক। একটি সমৃদ্ধ নগরে শিল্পকলা চর্চা বাঞ্চনীয়।

এজন্য শিল্পকলার বিকাশকে নগরায়নের অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলে মনে করা হয়।

বিপুল সংখ্যাক জনগন নগরায়নের প্রথম বৈশিষ্ট্য। কাজেই এই অধিক জনসংখ্যার দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে শিল্পের আশ্রয় নেয়া বাঞ্চনীয়।

তাই নগরায়নের একটি বৈশিষ্ট্য হলো- উৎপাদন নির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠান।

আর এই শিল্প সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ কারিগরদের কর্মে নিয়োগ করার মাধ্যমে গর্ডন চাইল্ড ১০টি বৈশিষ্ট্যর পূর্ণতা দিয়েছেন।

Leave a Comment