পৃথিবীর উৎস কোথায় বা কি করে পৃথিবীর উদ্ভব হলো

পৃথিবীর উৎস কোথায় বা কি করে পৃথিবীর উদ্ভব হলো

ফিলোসোফি কোর্স বাংলায় বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাস

আমাদের অনেকেরই মনেই প্রশ্ন জাগে যে আমরা যে বিশাল পৃথবীতে বসবাস করছি; সেই সুন্দর পৃথিবীর উৎস কোথায় বা কি করে পৃথিবীর উদ্ভব হলো ? এর সহজ কোনো উত্তর নেই, বা থাকলে আমাদের জানা নেই।

পৃথিবীর উৎপত্তি নিয়ে বহু যুগ আগে থেকে, বহু দার্শনিক ও বিজ্ঞানী বিভিন্ন মতবাদ ব্যক্ত করেছেন! আজকে আমরা পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত তেমনি কিছু মতবাদ আলোচনা করবো।

পৃথিবী সম্পর্কে মানুষের কৌতূহল অনাদিকালের। এ কৌতূহলের সূত্র ধরে বিভিন্ন সময়ে অনেক রকম ব্যাখ্যা করার চেষ্টা চলেছে। তবে; প্রাচীন ও মধ্যযুগের চিন্তাবিদগণ পৃথিবীর উৎস সম্পর্কে যে সমস্ত ব্যাখ্যা করেছেন তার অধিকাংশই ছিল কল্পনা নির্ভর।

পৃথিবীর উৎস কোথায় বা কি করে পৃথিবীর উদ্ভব হলো – এ বিষয়ে কিছু মতবাদ:

রেনেসাঁর যুগের চিন্তার ক্ষেত্রে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটে! যেমন; পােলিশ জ্যোতির্বিদ কোপার্নিকাস (১৪৭৩-১৫৪৩) প্রথম আবিষ্কার করেন যে; পৃথিবী নিজ অক্ষের উপর দাঁড়িয়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। এভাবে; কোপার্নিকাস আধুনিক বিজ্ঞানীদের জন্য চিন্তার ক্ষেত্র তৈরির একটি পথ রচনা করে যান।

আধুনিক বিজ্ঞানীগণ পৃথিবীর উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন মতবাদ ব্যক্ত করেছেন। তবে; এদের অধিকাংশই একমত যে; পৃথিবী সূর্যেরই একটি অংশ। এ তত্ত্ব অনুযায়ী সূর্যের চেয়ে বড় কোন নক্ষত্রের আকর্ষণে এক সময় জড়িয়ে যায় সূর্য। আবার; সেই নক্ষত্রের উপর সজোরে আছাড় পড়ে। প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হয়। সূর্যের কিছু অংশ ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে! ফলে, এভাবে জন্ম হয় বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের।

এ ঘটনাটি ঘটে প্রায় ১৫০০ কোটি বছর আগে। বিক্ষিপ্ত অংশগুলাে ক্রমে দানা বাধতে থাকে। এভাবে সৃষ্টি হতে থাকে নীহারিকা, তারকা, গ্রহ, উপগ্রহের; মহাবিশ্বে এমনি করে প্রতিনিয়ত সংঘটিত হচ্ছে নতুন নতুন সৃষ্টি। আর; এভাবে ছায়াপথ, নীহারিকার পাশাপাশি জন্ম নেয় আজকের সূর্য এবং তাদের গ্রহপরিবার তথা আমাদের পৃথীবিও।

সৌরমণ্ডলের বিভিন্ন গ্রহ যেমন- বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন ও পুটো নাম নিয়ে নির্দিষ্ট দূরত্বে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে থাকে। তবে; প্রথম দিকে সূর্যের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ পৃথিবী উত্তপ্ত ছিল এবং সেখানে জীবনের অস্তিত্বের কোন সম্ভাবনাই ছিল না।

আরো পড়ুন- মিশরের পিরামিড এর রহস্য

বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর প্রাচীনত্ব ৫০০ কোটি বছর। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বৃষ্টি, বাতাস, শৈত্যপ্রবাহ ইত্যাদি প্রাকৃতিক কারণে ধীরে ধীরে পৃথিবী ঠাণ্ডা হয়ে আসে।

ক্রমে পৃথিবী নতুন ভৌগােলিক অবস্থানে এসে দাঁড়ায় এবং জীবন বিকাশের অনুকূল অবস্থা সৃষ্টি হয়! বৃষ্টির পানিতে নিচু এলাকাগুলাে প্লাবিত হয়। একই পথ ধরে ধীরে ধীরে ১২৫ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে জীবনের স্ফুরণ ঘটতে থাকে।

উৎস- ইন্টারনেট

শেয়ার করুনঃ
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *