কনফুসিয়াসের পরিচয় মতবাদ দর্শন সমূহ বিস্তারিত জেনে নিন

প্রিয় পাঠক, আজ আমরা চীনের বিখ্যাত দার্শনিক কনফুসিয়াসের পরিচয়, মতবাদ এবং দর্শন নিয়ে আলোচনা করবো! প্রাচীন চিনে এক হতাশা আর কল্যাণ বঞ্চিত সমাজের সৃষ্টি হয়েছিলো।

ঠিক এমন পরিবেশে চীনে বেশ কয়েক জন দার্শনিকের আবির্ভাব ঘটেছিলো। এই দার্শনিকের মধ্যে অন্যতম ছিলোন কনফুসিয়াস।

আর পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিকদের মধ্যে প্রাচীন চীনের কনফুসিয়াসই ছিলেন সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। একজন নৈতিক দার্শনিক হিসেবে সৎ জীবন ও সৎ সমাজব্যবস্থাই ছিল তার কাম্য।

ছােটবেলা থেকেই জ্ঞানুরাগী ও বুদ্ধিদীপ্ত কনফুসিয়াস ধর্মীয় রীতি নীতিকে লােকাচার হিসেবে শ্রদ্ধা করলেও; ধর্মীয় বা অতিপ্রাকৃত বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাতেন না।

তার মতে, আমরা জীবনকেই ভালো করে জানি না, তাই মৃত্যুকে বুঝবার কোন উপায় আমাদের জানা নেই।

কনফুসিয়াসের দর্শন, চিন্তা চেতনা, মতবাদের উদ্দেশ্য ছিল চীনের প্রথায় ফিরে গিয়ে নৈতিক ও সদাচার পালনের শিক্ষার মাধ্যমে সমাজকে রক্ষা করা! তাই কনফুসিয়াসের দর্শন চৈনিক সমাজে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসে।

তাহলে চলুন, আমরা কনফুসিয়াসের পরিচয়, তার বিখ্যাত কিছু মতবাদ ও তার দর্শন জানার চেষ্টা করি।

আজকে আমরা- কনফুসিয়াসের পরিচয়, তার রচনা সমূহ, শিক্ষা, জ্ঞান, পরিবার ও সমাজ সম্পর্কিত মতবাদ এবং রাজনৈতিক ও নৈতকি দর্শন সহ তার সদগুণ নিয়ে আলোচনা করবো।

কনফুসিয়াসের পরিচয়:

কনফুসিয়াস ৫৫১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রাচীন চীনের ‘লু’ রাজ্যে বা বর্তমানে সানটুং প্রদেশের চুফু শহরের নিকট ফুয়াং পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন! তৎকালীন ‘লু’ রাজ্যে ফুয়াং পরিবারের সামাজিক মর্যাদা বেশ উঁচুতেই ছিলো।

কনফুসিয়াসের পিতার নাম হলো কুয়াঙ্গ। তারা ছিলেন শাং রাজাদের পুরােহিতদের বংশধর এবং পেশায় কনফুসিয়াসের পিতা একজন সৈনিক ছিলেন।

কনফুসিয়াসের পিতা সৈনিক হলেও, কনফুসিয়াসকে তার পিতা সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গোড়ের তোলার পদক্ষেপ নেন! কনফুসিয়াস তাই বাল্যকাল থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগ দেন।

মাত্র ২১ বছর বয়সে কনফুসিয়াস, তার কিছু বন্ধুকে, নিজের মতাদর্শে গোড়ে তোলেন। এভাবে কার খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পরে।

কনফুসিয়াসের কর্মজীবন:

প্রথম জীবনে কনফুসিয়াস একজন ছোটখাট কর্মচারি ছিলেন। কিন্তু, পরে ২২ বছর বয়সে তিনি নিজে একটি ছোট বিদ্যালয় স্থাপন করেন।

তার স্থাপনকৃত বিদ্যালয়ে তিনি যুবকদের শৃঙ্খলা এবং সঠিক নেতৃত্ব অর্জনের শিক্ষা দিতেন! কনফুসিয়াস লু রাষ্টের রাজদরবারে প্রায় ১৫ বছর কর্মরত ছিলেন; এবং এসময় লু রাষ্ট্রের শাসক কনফুসিয়াসকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন।

এরপরে ক্রমে নিজ যোগ্যতায় কনফুসিয়াস একসময় প্রধানমন্ত্রী হন। ফলে, তার প্রতি এক অভিজাত শ্রেণি ঈষার্ণ্বিত হন; আর তারা কনফুসিয়াসের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালান। ফলে- তাকে প্রধান মন্ত্রীর পদ থেকে বিতারিত করা হয়।

কনফুসিয়াসের রচনাবলি:

চৌ রাজাদের দৌরাত্ম, অত্যাচার ও লাম্পট্যে দেখে; এবং তকালীন চীনা সমাজে সামন্তপ্রথার কুফলে জর্জরিত অবস্থা দেখে কনফুসিয়াসের সরল মন কেঁদে উঠে।

তিনি এসব অন্যায়, অত্যাচার ও সামাজিক পঙ্কিলতার বিরুদ্ধে কলম হাতে কতকগুলাে বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন।

কনফুসিয়াসের কয়েকটি রচনা হলোঃ

  1. লিচি বা জীবনপঞ্জি
  2. ই কিং বা পরিবর্তিত গ্রন্থ
  3. সিকিং বা বাক্য গ্রন্থ
  4. সুচিং বা ইতিহাস গ্রন্থ
  5. চুন নিউ বা বসন্ত ও শরতের বিবরন।

এছাড়াও কনফুসিয়াস প্রাজ্ঞ বচন বা মুখে মুখে মহাবিদ্যা, চু-ইয়াং বা মধ্য গ্রন্থ; এবং চুন-চিত্ত বা বসন্ত-শরতের আখ্যান বর্ণনার মাধ্যমে তার শিক্ষা ও নৈতিক দর্শন তুলে ধরেন।

কনফুসিয়াসের মতবাদ:

রাজনৈতিক ভাবে কনফুসিয়াসের মতবাদ খুব একটা সফল না হলেও; একজন নৈতিক শিক্ষক হিসেবে প্রাচীন চীনের রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও নৈতিকতার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

চীনাদের মধ্যে আদর্শের বাণী প্রচারের উদ্দেশ্যে তিনি ‘Five Chings’ নামে পরিচিত পাঁচটি কর্তব্যের প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

আবার Four Chu নামেও কনফুসিয়াসের দর্শন বাণী সংকলিত ছিল। নিচে কনফুুুুসিয়াসের ৫টি চিং (Five Chings) এবং ৪টি চু (Four Chu) দেয়া হলো।

কনফুসিয়াসের ৫টি চিং (Five Chings):

  1. গভীর মনােযােগের সাথে প্রাচীন ঐতিহ্যকে লক্ষ্য করতে হবে।
  2. শিক্ষাকে সাধারণ ও সর্বব্যাপক করে তুলতে হবে।
  3. প্রত্যেক মানুষকেই ন্যায়পরায়ণ হতে হবে।
  4. পিতামাতা, বন্ধুবান্ধব ও বন্ধুদের প্রতি সদয় হতে হবে।
  5. নিজে পছন্দ করি না এমন কোন কাজ অন্যের উপর চাপানাে যাবে না।

কনফুসিয়াসের ৪ টি চু (Four Chu):

Four Chu নামে কনফুসিয়াসের দর্শন বাণী সংকলিত ছিল; যার মূল বক্তব্য হচ্ছে:

  1. নিয়মানুবর্তী পরিবার ও ব্যক্তি মাধ্যমেই আদর্শ সমাজ গড়ে উঠা সম্ভব।
  2. আত্ম উন্নয়ন হলেই সমাজ উন্নয়ন হবে।
  3. আদর্শ সমাজ গড়তে প্রত্যেকেরই চেষ্টা থাকতে হবে- নিজেকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তােলা।
  4. প্রত্যেকেই প্রত্যেকের প্রতি পক্ষপাত মুক্ত থাকতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কনফুসিয়াসের জীবনকালে তার শিক্ষা, উপদেশ যতটুকু অনুসৃত হয়েছিল, তার মৃত্যর কয়েক শতাব্দী পর তা আরও অনেক বেশি সমাদরের সাথে অনুসৃত হয়।

নিম্নে বিভিন্ন বিষয়ে কনফুসিয়াসের আরো মতবাদ সংক্ষেপে আলােচনা করা হলাে।

রাজনৈতিক মতবাদ :

কনফুসিয়াসের মতে, রাষ্ট্র একটি প্রাকৃতিক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু মানুষ একে পরিবর্তন করে ফেলতে পারে! আর রাষ্ট্র মানুষের জন্য, কিন্তু মানুষ রাষ্ট্রের জন্য নয়।

তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রবক্তা হলেও একনায়ক তন্ত্রে মােটেও বিশ্বাসী ছিলেন না। তার মতে; রাজাকে আদর্শ গুণাবলির অধিকারী হতে হবে এবং রাজা প্রতিভাবান পণ্ডিতদের মধ্য থেকে যােগ্যতম কর্মচারীদের নিয়ােগের মাধ্যমে শাসন কাজ পরিচালনা করবেন।

তিনি গ্রাম উন্নয়নের উপর অধিক জোর দেন; এবং গ্রামবাসী থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার উপর দেশের উন্নতি নির্ভর করে বলে বিশ্বাস করতেন।

শিক্ষা সম্পর্কে কনফুসিয়াসের মতবাদ:

মহান শিক্ষক দার্শনিক কনফুসিয়াস সমাজের মঙ্গলের জন্য সহানুভূতি ও সরলতর সমন্বয়ে মানুষের মমত্ব বিকাশের জন্য; উন্নত ও সুশিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্বারােপ করেন।

তার মতে, সুশিক্ষার মাধ্যমে সমাজে মহৎ ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটবে; এবং এ মহৎ ব্যক্তিত্বের জন্য তিনি যে কয়েকটি গুণের আবশ্যিকতার কথা বলেছেন।

শিক্ষা সম্পর্কিত কনফুসিয়াসের মতবাদ হলোঃ

  1. চোখে যা দেখবে তা সুস্পষ্ট ভাবে দেখবে।
  2. কানে যা শুনবে তা সুস্পষ্ট ভাবে শুনবে
  3. যা প্রকাশ করবে তা পরিষ্কার করে বলবে।
  4. অন্যের প্রতি সম্মান জনক ব্যবহার করবে।
  5. কথাবার্তায় স্বচ্ছ সরলতা থাকতে হবে।

কনফুসিয়াস তার শিষ্যদের বলতেন যে; তােমাদের প্রতি অন্য কেউ যে কাজ করলে তােমরা অসন্তুষ্ট হবে; তোমরা কখনই সে কাজ অন্যের প্রতি করবে না।

তাছাড়াও কনফুসিয়াস অন্যের প্রতি সবসময় সদাচরণ করার উপদেশ দিতেন।

কনফুসিয়াসের সামাজিক মতবাদ:

সমাজকে বিভিন্ন অনাচার ও দুর্নীতি থেকে রক্ষা করে উন্নত সমাজব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য; কনফুসিয়াস বিভিন্ন সমাজসংস্কারের প্রয়ােজনীয়তা উপলব্ধি করেন এবং তা প্রকাশ করেন।

একটি সুন্দর সমাজ নির্মাণে কনফুসিয়াস পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের বৃহত্তর অঙ্গন পর্যন্ত; পারস্পরিক দরদ, সহানুভূতি ও সহযােগিতার মাধ্যমে সুশীল সমাজ গঠনের উপদেশ দেন।

আর এক্ষেত্রে তিনি সমাজের মানুষের মধ্যে পাঁচ রকমের মানবিক সম্পর্কের উপর বিশেষ জোর দেন।

কনফুসিয়াসের গুরুত্বপূর্ণ ৫টি সামাজিক সম্পর্ক হলো:

  1. রাজা-প্রজার সম্পর্ক,
  2. পিতা-পুত্রের সম্পর্ক
  3. অগ্রজ-অনুজের/ছোট-বড় সম্পর্ক,
  4. বন্ধুবান্ধবদের মধ্যেকার সম্পর্ক,
  5. স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক।

ধর্ম সম্পর্কে কনফুসিয়াসের মতবাদ:

ধর্ম সম্পর্কে কনফুসিয়াস বিশেষ চিন্তা না করলেও তিনি পূর্ব প্রচলিত ধর্মীয় আচার প্রথার প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা পােষণ করতেন।

কনফুসিয়াসের ধর্ম সম্পর্কে মৌলিক অভিমত ছিল এ রকম, যে; জীবিতদের প্রতি আমাদের কর্তব্য সমূহ সম্পর্কে আমরা সম্যক অবগত নই; আর তাই মৃতদের প্রতি আমাদের কর্তব্য আমরা কি করে জানব।

তিনি মূলত ধর্ম প্রভাবহীন, সৎ জীবন-যাপন ও সুন্দর সমাজ ব্যবস্থার প্রত্যাশী ছিলেন।

পরিবার সম্পর্কে কনফুসিয়াসের মতবাদ:

কনফুসিয়াস মনে করতেন, পরিবার হলাে সমাজব্যবস্থার ভিত্তি। কেননা; সমাজ হচ্ছে রাষ্ট্রের অঙ্গ; আর পরিবার হলাে সমাজব্যবস্থার ভিত্তি। তিনি পিতৃ তান্ত্রিক পরিবারে পক্ষপাত ছিলেন।

জ্ঞান অর্জন সম্পর্কে কনফুসিয়াসের মতবাদ:

কনফুসিয়াস মনে করতেন যে; জ্ঞানই হলাে সকল সফলতার চাবিকাঠি এবং অদৃশ্য ইচ্ছা শক্তি দ্বারা আমাদের মধ্যে সকলেই জ্ঞান অর্জন করতে পারে।

তার মতে, জ্ঞান ছাড়া কুসংস্কার দূর করা সম্ভব না। একটি প্রদীপের আলাে যেমন সারা পৃথিবার অন্ধকার গ্রাস করতে পারে না; ঠিক তেমনি জ্ঞানীকে কুসংস্কার, দুর্নীতি ও অন্যায় গ্রাস করতে পারে না।

কনফুসিয়াসের মতবাদের প্রভাব:

বিভিন্ন বিষয়ে কনফুসীয় মতবাদ পরবর্তীকালে চীনের জাতীয় চরিত্র গঠনে এক দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।

কনফুসিয়াসের মতবাদ তৎকালীন চীনা সমাজে এমন ভাবে পরিচয় পায় ও জনপ্রিয়তা লাভ করে ও প্রভাব বিস্তার করে যে, তার নীতি ও আদর্শ, দর্শন চীনের সাধারণ মানুষের কাছে ধর্মীয় চেতনা রূপে পরিচিতি পায়।

জনবহুল চীন সমাজ যখন বহুবিধ রাষ্ট্রীয় অশান্তি ও অস্থিরতায় আসীন ঠিক তখন কনফুসীয় মতবাদ চীনাদের রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার ও ব্যক্তির ভূমিকা ও কর্তব্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে; তাদের চিরাচরিত সমাজজীবন ও সংস্কৃতির প্রতি একনিষ্ঠ থাকতে সাহায্য করে।

তার লেখা গ্রন্থ-চীনা বিদ্যালয়ে পাঠ্যপুস্তক হিসেবে স্থান পায় এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শাসক তাদের স্বার্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে কনফুসীয় মতাদর্শ প্রচার করে; জনগণকে তাদের প্রতি অনুগত করে রাখার চেষ্টা করেন।

কনফুসীয় মতবাদ কেবল অতীতেই নয়, বরং বর্তমান যুগেও চীনাদের উপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে আছে এবং অনাগত ভবিষ্যতেও হয়তােবা থাকবে।

কনফুসিয়াসের দর্শন আলোচনা করা হলোঃ

কনফুসিয়াসের রাজনৈতিক দর্শন:

কনফুসিয়াস দীর্ঘকাল রাজকীয় কার্যের সাথে যুক্ত ছিলেন। তাই; স্বাভাবিক ভাবে কনফুুসিয়াসের দর্শন চিন্তা রাজনৈতিক হওয়া স্বাভাবিক বিষয়।

রাজনৈতিক দর্শনে কনফুসিয়াস বলেছেন চিরস্থায়ী সরকার ব্যবস্থার কথা। তার মতে, চিরস্থায়ী সরকার গঠনকারী ব্যক্তি হবে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ।

তিনি বলেছেন, সরকারের প্রধান কর্তব্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। যে শাসন প্রজা কল্যাণের পক্ষে হবে, সে শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিনি শাসকদের পরামর্শ দেন।

তার মতে, রাষ্ট্র মানুষের কল্যাণের জন্য নিহিত, মানুষ রাষ্ট্রের জন্য নয়! তিনি ন্যায় বিচার ও সাম্যের কথা বলেছেন।

কনফুসিয়াস আইনের শাসন প্রাতষ্ঠার কথা বলেছেন। তিনি শাসকগণকে সৎগুণাবলি অর্জন করার পরামর্শ দিয়েছেন।

কনফুসিয়াস কখনোই একনায়কতন্ত্রের পক্ষে ছিলেন। তবে, বলেন- শাসন সরকারি কর্মচারী দ্বারা পরিচালিত হতে হবে। এসব বক্তব্যের জন্য তার দর্শন রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে আখ্যায়িত হয়।

কনফুসিয়োসের নৈতিক দর্শন:

কনফুসিয়াস ছিলেন মূলত নৈতিক দার্শনিক। তিনি জনগণকে নৈতিক জ্ঞান ও সদাচার পালনের শিক্ষা দিতেন।

তার দর্শনের প্রধান দিক ছিল নৈতিকতা আর বিষয়বস্তু ছিল ব্যক্তি! জনসাধারণকে নৈতিক চরিত্রদানের জন্য তিনি মাত্র ২১ বছর বয়সে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

এখানে তিনি যুবকদের শৃঙ্খলা ও সঠিক নেতৃত্বগুণ সহ নৈতিক গুণ অর্জনের শিক্ষা দিতেন। তাই কনফুসিয়াসের দর্শনকে নৈতিক দর্শন বলা যায়।

কনফুসিয়াসের দর্শনে রেন (Ren):

আমরা জানি, দার্শনিক প্লেটোর মতে- ন্যায়পরায়নতা হলো সবচেয়ে বড় জাস্টিস।

তেমনি ভাবে, রেন হলো কনফুসিয়াসের কাছে সব চেয়ে বড় সদগুণ। কনফুসিয়াসের অনেক আগে থেকেই চাইনিজ দর্শনে রেন এর আলোচনা ছিলো।

তবে কনফুসিয়াস, তার দর্শনের রেন এর গুরুত্ব দেন বেশি। আর তাই তিনি তার দর্শনে রেন অনেক আলোচনা করেন।

সহজ কথায় রেন হলো উদার বিষয়। তবে রেন কে এই একটি শব্দ দ্বারা ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়! যেমন মানবতাও রেন এর আরেকটি প্রকাশ।

তাই অনুরুপ পর্যায়ের ভালো ও সৎ কর্মই রেন এর আওয়তাভূক্ত। ধৈর্য্য, সমবেদনাও রেন এর প্রকাশ..

আবার যথোচিত কথার দ্বারাও রেন কে বোঝানো যেতে পারে। তবে, মানবতার সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন শব্দের মাধ্যমেও রেন কে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।

Ren as Love বা প্রেম হিসিবেও রেন কে বোঝানো হয়। কেননা, কারো মধ্যে প্রেম না থাকলে, তার মধ্যে মানবতাও থাকে না।

সতরাং কারো মধ্যে মানবতা না থাকলে, তার মধ্যে রেন থাকে না। এজন্য কনফুসিয়াস বলেন- Love to love all humanity.

সুতরাং, রেন চর্চাকারির কাজে ও কথায় মিল থাকবে। তারা অবশ্যই প্রতিজ্ঞা রক্ষা করবে।

কনফুসিয়াসের নীতি দর্শনের ২ টি নিয়ম:

অ্যানালেক্টস নামক গ্রন্থে কনফুসয়াস নীতি দর্শনের কথা বর্ণনা করেন। তিনি এই নীতি দর্শনে ২ টি নিয়মের কথা বর্ণনা করেন।

এই নীতি দর্শনকে Golden Rule & Silver Rule বলা হয়। তার মতে:

  1. Golden Rule / স্বর্ণ নিয়ম: কারো প্রতি এমন আচরন করা উচিত, যা আমরা নিজেদের প্রতি আশা করি।
  2. Silver Rule / রজত নিয়ম: তুমি যা নিজের জন্য ইচ্ছা পোষণ করো না, তা অন্যর জন্যও করো না।

কনফুসিয়াস ৩ টি নৈতিক বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন:

  • আত্ম-কৃষ্টি (Self-cultivation)
  • নৈতিক জীবনের দৃষ্টান্ত (Emulation of Moral Exemplars)
  • নিয়ম সম্পর্কে জ্ঞান অপেক্ষা বিচার করার দক্ষতা অর্জন করা।

আর ৩ টি নিয়ম সদগুণের সাথে যুক্ত-
১) কৃষ্টি, ২) শিক্ষণ, ৩) বিকাশ।

কনফুসিয়াসের ৫ টি মনোভাব (5 attitude):

  1. শ্রদ্ধা প্রদর্শন
  2. সহনশীল হওয়া
  3. বচনে কল্যানকামী হওয়া
  4. পবিত্রত বা শুদ্ধ হওয়া
  5. উদার হওয়া

কনফুসিয়াসের Quality of 6 Characters:

  1. Wisdom
  2. Making good of One’s word
  3. Uprightness
  4. Courage
  5. Resoluteness
  6. Society

3 context:

  1. Privet/domestic
  2. Public/ Mass
  3. Social

পরিশেষে বলা যায়, কনফুসিয়াস ছিলেন একজন দার্শনিক, রাজনীতিবিদ এবং নৈতিকতাবাদী। ‍তিনি তার দর্শন প্রচারের মাধ্যমে তৎকালীন চীনের হতাশাগ্রস্থ সমাজে জ্ঞানের ও আশার আলো আনতে সক্ষম হন! ফলে কনফুসিয়াসের নাম চীন সহ বিশ্ব দরবারে অমর হয়ে আছে।

সক্রেটিস পড়ুন..

কনফুসিয়াসের বিষয়ে আরো জানতে আজকের- এই পরিচয়, মতবাদ ও দর্শন বিষয়ে লেখা পোষ্ট ছাড়াও অন্যান্য সোর্স বা বই পড়তে পারেন। লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
সোর্স- internet

কিছু প্রশ্ন:

চীনের সর্বশ্রেষ্ঠ দার্শনিক কে?

কনফুসয়াস।

কনফুসিয়াস কোন দেশের দার্শনিক?

প্রাচীন চীন সভ্যতার।

কনফুসিয়াসের জন্ম হয় কবে ?

৫৫১ খ্রিষ্টপূর্বে।

কনফুসিয়াসের চাইনিজ নাম কি ?

কুঙ ফু সে

কনফুসিয়াসের আসল নাম কি ?

কুং চিউ।

কুঙ ফু সে – নামের অর্থ কি?

কুঙ প্রভু বা কুঙ শিক্ষক।

কনফুসিয়াসের দর্শনের মূল উদ্দেশ্য কি ছিলো?

সমাজ কেন্দ্রিক সুখি ও সমৃদ্ধ জীবন ব্যবস্থা করা।

Leave a Comment