উকুন মারার উপায় কি

উকুন মারার উপায় কি তা জানতে চাইলে এই লেখাটি আপনার জন্য। এখানে উকুন মারার পরিক্ষিত ৭ টি সেরা ও কার্যকারী উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। চলুন একে একে জেনে নেয়া যাক উকুন মারার উপায় গুলোঃ

১। লেবুর রসের ব্যবহারঃ

শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি যে লেবুর রস লাগিয়েও আপনি আপনার মাথার উকুন তাড়াতে পারবেন! কারন লেবুর রসে যে সাইট্রিক এসিড রয়েছে তা উকুন দূর করতে উপযোগী। এজন্য আপনাকে লেবুর রসের সাথে আদা বেটে নিয়ে; সেই মিশ্রণটি আপনার মাথার চুলে প্রায় ৩০ মিনিট রেখে দিতে হবে। প্রথমে জল এবং তারপর শ্যাম্পু করে মাথা ধুয়ে ফেলতে হবে। এই মিশ্রণটি পর পর ৪-৫ দিন চুলে লাগালে পুরোপুরি উকুন আটকানো যায় ও উকুন মরে যাবে।

২। ভিনেগারের ব্যবহারঃ

মাথা থেকে উকুন দূর করতে ভিনেগার হলো একটি দারুন উপাদান। ভিনেগারের আরেক নাম হলো আপেল সিডার। ভিনেগার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রির দোকানেই পাবেন। ভিনেগারে থাকে এসিটিক এসিড। এই এসিটিক এসিডের প্রভাবেই উকুন ধ্বংস হয়। এজন্য আপনাকে সমান পরিমানের ভিনেগার আর মিনারেল অয়েল মিশিয়ে ঘুমোনোর আগে সেইটা আপনার মাথার তালুতে এবং চুলে লাগিয়ে রাখতে হবে। আবার সকালে ঘুম থেকে উঠে শ্যাম্পু করতে হবে। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার এই মিশ্রণটি লাগালে কিছু সপ্তাহের মধ্যেই আপনার মাথার উকুন দূর হয়ে যাবে।

৩। পেঁয়াজের ব্যবহারঃ

পেঁয়াজ দিয়ে উকুন তাড়নো পদ্ধতিটি বেশ পুরোনো! এ পদ্ধতিতে অনেক আগে থেকেই মাথার উকুন দূর করা হয়। এর প্রধান কারন হলো পেঁয়াজ দিয়ে উকুন দুর করার বিষয়টি সবার কাছেই পরিচিত। তাছাড়া পেঁয়াজ সহজেই হাতের কাছেই পাওয়া যায় বলে সকলেই উকুন তাড়ানোর জন্য পেঁয়াজ ব্যবহার করে। পেঁয়াজ দিয়ে উকুন মারার জন্য কয়েকটি ছোট আকারের পিঁয়াজ বেটে রাখতে হবে। তারপর ছাকনি দিয়ে ছেঁকে তার রস বের করে সেইটা আপনার চুলে এবং মাথার তালুতে ভালো ভাবে লাগাতে হবে। এরপর মাথা ঢেকে তা প্রায় ২ ঘন্টার রেখে দিতে হবে। ২ ঘন্টা অতিক্রম হলে মাথায় সামান্য গরম জল এবং শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই পদ্ধতি টি প্রথমে পর পর ৩ দিন প্রয়োগ করে তারপর সপ্তাহে একদিন লাগাতে হবে। এইভাবে যতদিন না আপনার মাথার পুরো উকুন না মরছে ততদিন মাসে ১ দিন করে হলেও লাগাতে হবে।

৪। নারিকেল তেলের সাথে কর্পূর ব্যবহারঃ

নারিকেল তেল দিয়েও যে উকুন তাড়ানো যায় তা হয়তো আমরা অনেকেই জানি না! কিন্তু নারিকেল তেলও উকুন দূর করতে বেশ কাজের! এজন্য আপনাকে ঘুমানোর আগে রাতে ৩ থেকে ৪ চামচ নারকেল তেল এবং কর্পূর গরম করে তা চুলে এবং মাথার তালুতে ভালো করে লাগাতে হবে! সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে শ্যাম্পু করে নিবেন। সপ্তাহে ৫ দিন নিয়ম করে এই পদ্ধতি অনুসরণ করার পর আপনার মাথার উকুন দূর হবে।

৫। মাখন ও পেট্রোলিয়াম জেলি লাগানঃ

মজার বিষয় হলো মাখন ও পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করলে মাথার উকুনের সাথে উকুনের ডিমও দূর হয়ে যাবে! এজন্য মাখন ও পেট্রোলিয়াম জেলির মিশ্রন তৈরি করে নিয়ে, ঘুমানোর আগে মাথায় ভালো ভাবে দিয়ে শাওয়ারক্যাপ দিয়ে মাথা ভালো ভাবে ঢেকে রাখতে হবে। এর পরে সকালে ভালো ভাবে শ্যাম্পু করে নিতে হবে। এভাবে নিয়মিত করলে উকুন দূর হয়ে যাবে।

৬। চুলে ফেসওয়াশ লাগানঃ

ফেসওয়াশ দিয়েও দারুন ভাবে মাথার উকুন তাড়ানো যায়। এজন্য আপনি যে ফেইসওয়াশ ব্যবহার করেন সেটাই আপনার চুলে লাগান। এরপর একবার চুল ভালো করে আঁচড়ে নিন; অতিরিক্ত ফেইসওয়াশ দূর করার জন্য। তারপর হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে আপনার চুল ভালো করে শুকিয়ে নিন! এর ফলে উকুন নিঃশ্বাস নিতে পারবে না! এই পদ্ধতি রাতের বেলা প্রয়োগ করার চেষ্টা করবেন! কারণ চুলে ফেইসওয়াশ প্রায় ৮ ঘণ্টার বেশি রাখতে হবে! কারন উকুন নিঃশ্বাস না নিয়ে প্রায় ৮ ঘণ্টার মত বেঁচে থাকতে পারে! সকালে চুল ধুয়ে ফেলবেন! আর সাথে অবশ্যই আপনার ব্যবহার করা বালিশের কাপড়; বিছানার চাদর গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন! এটা প্রতি সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন করতে হবে; তাহলে উকুনের হাত থেকে রক্ষা পাবেন।

৭। কন্ডিশনার ও চিকন চিঁড়ুনির ব্যবহারঃ

আপনি গোসলের সময় মাথায় কন্ডিশনার দিয়ে নিবেন। এর পর নিট কম্বো বা চিকন চিরুনি দিয়ে মাথা আঁচড়িয়ে নিবেন! দেখবেন পানির সাথে আপনার মাথা থেকে উকুনের ডিম সহ উকুন উঠে আসছে।

সতর্কতাঃ

  • উপরের সব পদ্ধতি একই সাথে প্রয়োগ করবেন না।
  • মাথা সব সময় পরিষ্কার রাখবেন।
  • উকুন আছে এমন কারো সাথে ঘুমানো থেকে বিরত থাকবেন।
  • অন্যর চিরুনি বা কাপড় ব্যবহার করবেন না।
  • বাজারের উকুন নাশক চুলে লাগালে চুলের ও মাথার ত্বকের মারাত্বক ক্ষতি হয়।

Leave a Comment